পার্বতীপুর জংশন থেকে ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ – উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু
উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলো পার্বতীপুর জংশন। দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত এই স্টেশনটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তর রেলওয়ে জংশন হিসেবে পরিচিত। পার্বতীপুর জংশনের বিশেষ গুরুত্ব হলো—এখানে স্থাপিত হয়েছে চর্তুমুখী রেলপথ। চার দিক থেকে আসা রেললাইন এখানে মিলিত হয়েছে, যা একে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।
পার্বতীপুর জংশন দিয়ে চিলাহাটি, লালমনিরহাট ও বুড়িমারি সীমান্ত হয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের সাথে সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। এছাড়া এখানে রয়েছে রেলওয়ের কেন্দ্রীয় ইঞ্জিন কারখানা, যা দেশের রেল ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালেও পার্বতীপুর জংশন থেকে নিয়মিত আন্তঃনগর ও মেইল/কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে। সূত্র অনুযায়ী, পার্বতীপুর জংশন দিয়ে ১১টি আন্তঃনগর ট্রেন ও ১৮টির বেশি মেইল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, চিলাহাটি এক্সপ্রেস, রূপসা এক্সপ্রেস, সীমান্ত এক্সপ্রেস, ডোলাঞ্চাপা এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য।
ট্রেন ভ্রমণের অন্যতম বড় সুবিধা হলো পার্বতীপুর জংশনে পাওয়া যায় প্রচুর ট্রেনের অপশন। যাত্রীরা তাদের গন্তব্য ও সময় অনুযায়ী সকাল, দুপুর, বিকাল বা রাতের ট্রেন বেছে নিতে পারেন। এখান থেকে যাত্রীরা সরাসরি ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, চিলাহাটি, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে পারেন।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানবো পার্বতীপুর জংশন থেকে যেসব ট্রেন চলাচল করে, তাদের সম্পূর্ণ সময়সূচী, ছাড়ার সময়, গন্তব্য, ছুটির দিন, শ্রেণিভেদে ভাড়া এবং যাত্রার আগে করণীয় বিষয়গুলো। নিচের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।
পার্বতীপুর জংশন থেকে ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী ও ভাড়া
১. পার্বতীপুর জংশন সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| স্টেশনের নাম | পার্বতীপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশন |
| অবস্থান | দিনাজপুর জেলা, বাংলাদেশ |
| আয়তন | ৩৯৫.০৪ বর্গ কিলোমিটার |
| সংযোগ রুটসমূহ | চর্তুমুখী রেলপথ |
| মোট চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন | ১১টি |
| মোট মেইল ও কমিউটার ট্রেন | ১৮টির বেশি |
| স্টেশনের ধরণ | জংশন (A গ্রেড) |
| বিশেষ স্থাপনা | কেন্দ্রীয় ইঞ্জিন কারখানা |
২. আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী (পার্বতীপুর জংশন থেকে)
নিচে পার্বতীপুর জংশন থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর বিস্তারিত সময়সূচী ও গন্তব্য দেওয়া হলো।
২.১ ঢাকাগামী ট্রেনসমূহ
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার সময় | পৌছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| চিলাহাটি এক্সপ্রেস | ৮০৬ | সকাল ০৭:৩০ | দুপুর ০২:৫০ | নেই |
| কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস | ৭৯৮ | সকাল ০৯:৪৫ | বিকাল ০৫:১৫ | বুধবার |
| দ্রুতযান এক্সপ্রেস | ৭৫৮ | সকাল ১০:৪৫ / ১১:৪৫ | সন্ধ্যা ০৬:৫৫ | নেই |
| পঞ্চগড় এক্সপ্রেস | ৭৯৪ | বিকাল ০৩:২০ | রাত ০৯:৫৫ | নেই |
| নীলসাগর এক্সপ্রেস | ৭৬৬ | রাত ০৯:৪০ | সকাল ০৫:৩০ | নেই |
| একতা এক্সপ্রেস | ৭০৬ | রাত ১১:৫৫ | সকাল ০৭:৫০ | নেই |
বিঃদ্রঃ: কিছু সূত্রে দ্রুতযান এক্সপ্রেসের সময় সকাল ১০:৪৫ ও ১১:৪৫—উভয়টিই উল্লেখ আছে। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী সকাল ১১:৪৫ সময়টিকে অধিক নির্ভরযোগ্য ধরা হয়।
২.২ দিনাজপুরগামী ট্রেনসমূহ
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার সময় | পৌছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| দ্রুতযান এক্সপ্রেস | ৭৫৭ | ভোর ০৪:০০ | সকাল ০৪:৪০ | বুধবার |
| রামসাগর এক্সপ্রেস | ৫৯ | দুপুর ১২:১০ | বিকাল ০১:২০ | নেই |
| একতা এক্সপ্রেস | ৭০৫ | সন্ধ্যা ০৬:১০ | সন্ধ্যা ০৬:৫০ | মঙ্গলবার |
| ডোলাঞ্চাপা এক্সপ্রেস | ৭৬৭ | রাত ০৭:২০ | রাত ০৮:২০ | নেই |
২.৩ চিলাহাটিগামী ট্রেনসমূহ
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার সময় | পৌছানোর সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| সীমান্ত এক্সপ্রেস | ৭৪৭ | ভোর ০৪:৫০ | সকাল ০৬:২০ | নেই |
| তিতুমীর এক্সপ্রেস | ৭৩৩ | সকাল ১১:৩০ | দুপুর ০১:০০ | বুধবার |
| রূপসা এক্সপ্রেস | ৭২৭ | বিকাল ০৩:৩৫ | সন্ধ্যা ০৫:০০ | বৃহস্পতিবার |
| নীলসাগর এক্সপ্রেস | ৭৬৫ | বিকাল ০৪:১০ | সন্ধ্যা ০৫:৪৫ | সোমবার |
| বরেন্দ্র এক্সপ্রেস | ৭৩১ | রাত ০৭:৪৫ | রাত ০৯:৫০ | রবিবার |
২.৪ খুলনা ও রাজশাহীগামী ট্রেনসমূ
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | গন্তব্য | ছাড়ার সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| ডোলাঞ্চাপা এক্সপ্রেস | ৭৬৮ | সান্তাহার | সকাল ০৭:১০ | নেই |
| বরেন্দ্র এক্সপ্রেস | ৭৩২ | রাজশাহী | সকাল ০৭:৪৫ | রবিবার |
| তিতুমীর এক্সপ্রেস | ৭৩৪ | রাজশাহী | বিকাল ০৪:০০ | বুধবার |
| সীমান্ত এক্সপ্রেস | ৭৪৮ | খুলনা | রাত ০৮:৩০ | নেই |
| রূপসা এক্সপ্রেস | ৭২৮ | খুলনা | সকাল ০৯:৩৪ | বৃহস্পতিবার |
৩. মেইল ও কমিউটার ট্রেনের সময়সূচী (পার্বতীপুর জংশন থেকে)
নিচে পার্বতীপুর জংশন থেকে ছেড়ে যাওয়া মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলোর বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো :
| ট্রেন নং | ট্রেনের নাম | গন্তব্য | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ৩২ | উত্তরা এক্সপ্রেস | রাজশাহী | ভোর ০৩:১৫ |
| ৪২২ | লালমনি কমিউটার | রমনা | ভোর ০৩:৩০ |
| ৮ | উত্তরবাংলা মেইল | সান্তাহার | দুপুর ০২:২৫ |
| ৬৪ | লালমনি কমিউটার | লালমনিরহাট | সকাল ০৫:৫৫ |
| ৪১ | কাঞ্চন এক্সপ্রেস | পঞ্চগড় | সকাল ০৮:০০ |
| ৬২ | দিনাজপুর কমিউটার | লালমনিরহাট | দুপুর ১২:২৫ |
| ৬০ | রামসাগর এক্সপ্রেস | বোনারপাড়া | বিকাল ০৪:৫০ |
| ৭ | উত্তরবাংলা মেইল | পঞ্চগড় | বিকাল ০৫:২০ |
| পার্বতীপুর কমিউটার | পার্বতীপুর কমিউটার | লালমনিরহাট | রাত ০৮:২০ |
| ২৪ | রকেট এক্সপ্রেস | খুলনা | সকাল ০৯:১০ |
| ২৭ | চিলাহাটি এক্সপ্রেস | চিলাহাটি | রাত ১১:০০ |
| রংপুর কমিউটার-২ | রংপুর কমিউটার | লালমনিরহাট | সকাল ১০:০০ |
| পঞ্চগড় কমিউটার-১ | পঞ্চগড় কমিউটার | পঞ্চগড় | বিকাল ০৩:১০ |
| ৬১ | দিনাজপুর কমিউটার | বিরল | সকাল ০৯:১৫ |
৪. দূরত্ব ও ভ্রমণ সময়
| রুট | দূরত্ব | ভ্রমণ সময় (আন্তঃনগর) |
|---|---|---|
| পার্বতীপুর → ঢাকা | ৩০৮-৩১৫ কিমি | ৭-৮ ঘণ্টা |
| পার্বতীপুর → দিনাজপুর | প্রায় ৩২ কিমি | ৪০-৬০ মিনিট |
| পার্বতীপুর → চিলাহাটি | প্রায় ৩৫ কিমি | ১-১.৫ ঘণ্টা |
| পার্বতীপুর → খুলনা | প্রায় ৩৭০ কিমি | ৯-১০ ঘণ্টা |
| পার্বতীপুর → রাজশাহী | প্রায় ১৫০ কিমি | ৪-৫ ঘণ্টা |
৫. পার্বতীপুর টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়া ২০২৬
পার্বতীপুর থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের ভাড়া আসন বিভাগ অনুযায়ী নির্ধারিত। নিচে ২০২৬ সালের ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
| আসনের বিভাগ | টিকিটের মূল্য (টাকায়) |
|---|---|
| শোভন | ৩৬৫ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ৪৪০ – ৫৪০ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৮৪০ – ১০৩৫ টাকা |
| এসি সিট | ১০০৭ – ১২৩৭ টাকা |
| এসি বার্থ | ১৫১৩ – ১৮৫৮ টাকা |
৬. গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনসমূহে যাত্রাবিরতির তথ্য
পার্বতীপুর জংশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলো যাত্রাপথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। ঢাকাগামী ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে প্রধান স্টেশনগুলো হলো:
-
চিরিরবন্দর / পার্বতীপুর
-
সান্তাহার
-
নাটোর
-
ঈশ্বরদী
-
টাঙ্গাইল (কিছু ট্রেন)
-
জয়দেবপুর
-
ঢাকা কমলাপুর
৭. পার্বতীপুর জংশনের গুরুত্ব ও বিশেষত্ব
পার্বতীপুর জংশন উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। এর বিশেষত্ব হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| চর্তুমুখী রেলপথ | চার দিক থেকে আসা রেললাইন এখানে মিলিত হয়েছে |
| কেন্দ্রীয় ইঞ্জিন কারখানা | দেশের রেল ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা |
| সংযোগ রুট | চিলাহাটি, লালমনিরহাট ও বুড়িমারি সীমান্তের সাথে সংযোগ |
| জংশনের ধরণ | বৃহত্তর রেলওয়ে জংশন |
৮. টিকিট অনলাইন বুকিংয়ের নিয়ম
পার্বতীপুর জংশন থেকে ট্রেনের টিকিট পেতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
-
অনলাইনে টিকিট কাটুন: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায়
-
যাত্রার ৭ দিন আগে বুকিং দিন: টিকিট সাধারণত যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় খোলা হয়
-
কাউন্টার থেকেও টিকিট পাবেন: পার্বতীপুর স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট কেনা যায়
পার্বতীপুর জংশন যাত্রা টিপস
-
টিকিট আগে বুকিং করুন: যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন
-
গন্তব্য অনুযায়ী ট্রেন বেছে নিন:
-
ঢাকা যেতে: একতা এক্সপ্রেস (রাত), দ্রুতযান এক্সপ্রেস (সকাল), পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (বিকাল)
-
দিনাজপুর যেতে: দ্রুতযান, একতা বা রামসাগর এক্সপ্রেস
-
চিলাহাটি যেতে: রূপসা, তিতুমীর বা সীমান্ত এক্সপ্রেস
-
-
ছুটির দিন জেনে নিন: আপনার ট্রেনের ছুটির দিন সম্পর্কে আগে জেনে নিন:
-
কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস: বুধবার বন্ধ
-
দ্রুতযান এক্সপ্রেস: বুধবার বন্ধ (দিনাজপুর রুটে)
-
রূপসা এক্সপ্রেস: বৃহস্পতিবার বন্ধ
-
নীলসাগর এক্সপ্রেস: সোমবার বন্ধ
-
-
স্টেশনে আগে পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যান
-
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে রাখুন: দীর্ঘ পথের যাত্রায় খাবার ও পানি সাথে রাখা ভালো। ট্রেনে সাধারণত ক্যাটারিং সুবিধা থাকে
উপসংহার
পার্বতীপুর জংশন উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত কেন্দ্র। চর্তুমুখী রেলপথের কারণে এটি একে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। ২০২৬ সালেও পার্বতীপুর জংশন থেকে নিয়মিত ১১টি আন্তঃনগর ও ১৮টির বেশি মেইল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে।
পার্বতীপুর জংশনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
✅ চর্তুমুখী রেলপথ: চার দিক থেকে সংযুক্ত, উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রবিন্দু
✅ প্রচুর ট্রেন অপশন: মোট ১১টি আন্তঃনগর ও ১৮টির বেশি মেইল ট্রেন
✅ সরাসরি সংযোগ: ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, চিলাহাটি, পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে
✅ সাশ্রয়ী ভাড়া: পার্বতীপুর টু ঢাকা শোভন চেয়ারে মাত্র ৪৪০-৫৪০ টাকা
✅ কেন্দ্রীয় ইঞ্জিন কারখানা: দেশের রেল ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
পার্বতীপুর জংশন থেকে যাত্রীরা সরাসরি ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে পারেন। ট্রেন ভ্রমণের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এখানে পাওয়া যায় প্রচুর ট্রেনের অপশন। যাত্রীরা তাদের গন্তব্য ও সময় অনুযায়ী সকাল, দুপুর, বিকাল বা রাতের ট্রেন বেছে নিতে পারেন।
যাত্রার আগে অবশ্যই ট্রেনের ছুটির দিন জেনে নিন। এখান থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বুধবার, দ্রুতযান এক্সপ্রেস (দিনাজপুর রুটে) বুধবার, রূপসা এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার, নীলসাগর এক্সপ্রেস সোমবার বন্ধ থাকে।
টিকিট আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং দেওয়া ভালো। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করলে ঝামেলা কমে এবং নিশ্চিত আসন পাওয়া যায়।
২০২৬ সালে আপনার উত্তরবঙ্গ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে পার্বতীপুর জংশন হতে পারে আপনার যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। সঠিক সময়সূচী মেনে টিকিট কেটে নিন এবং নিশ্চিন্তে যাত্রা শুরু করুন। আপনার যাত্রা শুভ হোক!
Frequently Asked Questions (FAQ) – ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: পার্বতীপুর জংশন কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: পার্বতীপুর জংশন দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত। এটি উত্তরবঙ্গের একটি বৃহত্তর রেলওয়ে জংশন।
প্রশ্ন ২: পার্বতীপুর জংশনে কয়টি প্ল্যাটফর্ম আছে?
উত্তর: সঠিক সংখ্যা সূত্রে না থাকলেও এটি একটি বড় জংশন হওয়ায় একাধিক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।
প্রশ্ন ৩: পার্বতীপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার ট্রেন কোনটি?
উত্তর: একতা এক্সপ্রেস (৭০৬), দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৮), পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৭৯৪), নীলসাগর এক্সপ্রেস (৭৬৬), কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস (৭৯৮) ও চিলাহাটি এক্সপ্রেস (৮০৬)।
প্রশ্ন ৪: পার্বতীপুর থেকে ঢাকা ট্রেনের ভাড়া কত?
উত্তর: শোভন ৩৬৫-৫৪০ টাকা, স্নিগ্ধা ৮৪০-১০৩৫ টাকা, এসি সিট ১০০৭-১২৩৭ টাকা, এসি বার্থ ১৫১৩-১৮৫৮ টাকা।
প্রশ্ন ৫: একতা এক্সপ্রেস পার্বতীপুর থেকে কখন ছাড়ে?
উত্তর: একতা এক্সপ্রেস (৭০৬) ঢাকার উদ্দেশ্যে রাত ১১:৫৫ মিনিটে ছাড়ে।
প্রশ্ন ৬: দ্রুতযান এক্সপ্রেসের ছুটির দিন কোনটি?
উত্তর: দ্রুতযান এক্সপ্রেস (ঢাকাগামী) নেই, কিন্তু দিনাজপুরগামী (৭৫৭) রুটে বুধবার বন্ধ।
প্রশ্ন ৭: পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ছুটির দিন আছে কি?
উত্তর: পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের কোনো ছুটির দিন নেই।
প্রশ্ন ৮: নীলসাগর এক্সপ্রেসের ছুটির দিন কোনটি?
উত্তর: নীলসাগর এক্সপ্রেসের (৭৬৬) কোনো ছুটির দিন নেই, তবে (৭৬৫) চিলাহাটিগামী রুটে সোমবার বন্ধ।
প্রশ্ন ৯: কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস সপ্তাহের কোন দিন বন্ধ থাকে?
উত্তর: কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বুধবার বন্ধ থাকে।
প্রশ্ন ১০: রূপসা এক্সপ্রেসের ছুটির দিন কোনটি?
উত্তর: রূপসা এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।
প্রশ্ন ১১: সীমান্ত এক্সপ্রেসের ছুটির দিন আছে কি?
উত্তর: সীমান্ত এক্সপ্রেসের কোনো ছুটির দিন নেই।
প্রশ্ন ১২: তিতুমীর এক্সপ্রেসের ছুটির দিন কোনটি?
উত্তর: তিতুমীর এক্সপ্রেস বুধবার বন্ধ থাকে।
প্রশ্ন ১৩: বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের ছুটির দিন কোনটি?
উত্তর: বরেন্দ্র এক্সপ্রেস রবিবার বন্ধ থাকে।
প্রশ্ন ১৪: ডোলাঞ্চাপা এক্সপ্রেসের ছুটির দিন আছে কি?
উত্তর: ডোলাঞ্চাপা এক্সপ্রেসের ছুটির দিন নেই।
প্রশ্ন ১৫: পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর যাওয়ার ট্রেন কোনটি?
উত্তর: দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৭), একতা এক্সপ্রেস (৭০৫) ও রামসাগর এক্সপ্রেস (৫৯)।
প্রশ্ন ১৬: পার্বতীপুর থেকে চিলাহাটি যাওয়ার ট্রেন কোনটি?
উত্তর: রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৭), তিতুমীর এক্সপ্রেস (৭৩৩), নীলসাগর এক্সপ্রেস (৭৬৫), সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭) ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস (৭৩১)।
প্রশ্ন ১৭: পার্বতীপুর থেকে খুলনা যাওয়ার ট্রেন কোনটি?
উত্তর: সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৮) ও রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৮)।
প্রশ্ন ১৮: পার্বতীপুর থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেন কোনটি?
উত্তর: বরেন্দ্র এক্সপ্রেস (৭৩২), তিতুমীর এক্সপ্রেস (৭৩৪), উত্তরা এক্সপ্রেস (৩২) ও রকেট এক্সপ্রেস (২৪)।
প্রশ্ন ১৯: ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কাটা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায়।
প্রশ্ন ২০: পার্বতীপুর জংশনের চর্তুমুখী রেলপথ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: চার দিক থেকে আসা রেললাইন এখানে মিলিত হওয়ায় একে চর্তুমুখী রেলপথ বলা হয়।
প্রশ্ন ২১: পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় ইঞ্জিন কারখানা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, পার্বতীপুরে রেলওয়ের কেন্দ্রীয় ইঞ্জিন কারখানা অবস্থিত।
প্রশ্ন ২২: ট্রেনের টিকিট কতদিন আগে বুকিং দেওয়া যায়?
উত্তর: যাত্রার ৭ দিন আগে থেকে অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়া যায়।
প্রশ্ন ২৩: পার্বতীপুর থেকে ঢাকা পর্যন্ত কত কিলোমিটার?
উত্তর: প্রায় ৩০৮-৩১৫ কিলোমিটার।
প্রশ্ন ২৪: শিশুদের টিকিটের হার কত?
উত্তর: ৩ বছরের কম শিশুদের বিনামূল্যে, ৩-১২ বছর বয়সীদের সাধারণ ভাড়ার অর্ধেক।
প্রশ্ন ২৫: মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত সিট আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, সব আন্তঃনগর ট্রেনে মহিলা সংরক্ষিত বগি থাকে।
প্রশ্ন ২৬: বর্ষাকালে ট্রেন চলে?
উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় চলে, তবে ভারী বৃষ্টিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
প্রশ্ন ২৭: ট্রেন মিস করলে টিকিট ফেরত পাওয়া যায়?
উত্তর: নির্দিষ্ট নিয়মে ট্রেন ছাড়ার আগে টিকিট জমা দিলে কিছু টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২৮: ট্রেনের সঠিক সময়সূচী কোথায় পাব?
উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট railway.gov.bd ও মোবাইল অ্যাপে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২৯: ঈদের সময় টিকিট পাওয়ার উপায় কী?
উত্তর: ঈদের অগ্রিম টিকিট যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে বুকিং দিতে হয়। দ্রুত শেষ হয়ে যায় বলে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকুন।
প্রশ্ন ৩০: এখান থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি যেতে কীভাবে?
উত্তর: পার্বতীপুর উপজেলায়ই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি অবস্থিত, স্টেশন থেকে বাস বা সিএনজি যোগে যাওয়া যায়।






