কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ – খুলনা টু রাজশাহী
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্দরনগরী খুলনা থেকে ঐতিহাসিক নগরী রাজশাহীর সেতুবন্ধন রচনায় অনন্য ভূমিকা রাখছে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই আন্তঃনগর ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে খুলনার অদূরে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদীর নামানুসারে। এটি শুধু একটি ট্রেনই নয়, বরং পশ্চিমাঞ্চলের দুই বৃহৎ শহরের মাঝে দৈনিক যোগাযোগের একটি সেতুবন্ধন।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এটি বাংলাদেশের ব্রডগেজ লাইনে চলাচলকারী প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন। ১৯৮৬ সালের ১লা মে যাত্রা শুরু করে এই ট্রেনটি প্রায় চার দশক ধরে যাত্রীদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে টিকে আছে।
খুলনা থেকে রাজশাহীর রেলপথের দূরত্ব প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার। কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে সময় নেয় প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৫ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টা। যাত্রাপথে এটি প্রায় ১৩টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়, যা যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, পাবনাসহ মধ্যবর্তী অঞ্চলের যাত্রীদের জন্যও অত্যন্ত সুবিধাজনক।
ট্রেনটির দুইটি ট্রেন নম্বর রয়েছে। ট্রেন নং ৭১৫ (খুলনা থেকে রাজশাহী) এবং ট্রেন নং ৭১৬ (রাজশাহী থেকে খুলনা)। এটি একটি আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেন যা বর্তমানে এলএইচবি (LHB) কোচ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ট্রেনটিতে এসি সিট, স্নিগ্ধা এবং শোভন চেয়ার—তিন ধরনের আসন সুবিধা রয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। কিন্তু কোন দিন বন্ধ থাকে এ নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নতা রয়েছে। অধিকাংশ আপডেটেড সূত্র অনুযায়ী শুক্রবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তবে কিছু সূত্রে মঙ্গলবার বা শনিবার উল্লেখ থাকলেও, সম্প্রতি ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস শুক্রবার বন্ধ থাকে।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানবো কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, ২০২৬ সালের ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম এবং যাত্রার আগে করণীয় বিষয়গুলো। নিচের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের বিস্তারিত সময়সূচী ও ভাড়া
১. ট্রেন সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (Kapotaksha Express) |
| ট্রেন নম্বর (খুলনা→রাজশাহী) | ৭১৫ |
| ট্রেন নম্বর (রাজশাহী→খুলনা) | ৭১৬ |
| রুট | খুলনা ↔ রাজশাহী |
| মোট দূরত্ব | প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার |
| মোট ভ্রমণ সময় | প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৫ মিনিট – ৬ ঘণ্টা |
| ট্রেনের ধরন | আন্তঃনগর |
| সর্বপ্রথম চালু | ১ মে ১৯৮৬ |
| সাপ্তাহিক ছুটির দিন | শুক্রবার |
| মোট স্টেশন | প্রায় ১৩টি |
| বর্তমান কোচ | এলএইচবি (LHB) কোচ |
২. খুলনা টু রাজশাহী – সময়সূচী ও স্টেশন তালিকা (ট্রেন নং ৭১৫)
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (৭১৫) খুলনা জংশন থেকে সকাল ৬:১৫/৬:৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং দুপুর ১২:২০ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছায়।
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (খুলনা→রাজশাহী)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ১ | খুলনা | – | সকাল ০৬:৪৫ |
| ২ | নওয়াপাড়া | সকাল ০৭:১৮ | সকাল ০৭:১৮ |
| ৩ | যশোর | সকাল ০৭:৪৯ | সকাল ০৭:৪৯ |
| ৪ | মোবারকগঞ্জ | – | সকাল ০৮:১৯ |
| ৫ | কোটচাঁদপুর | সকাল ০৮:৩২ | সকাল ০৮:৩২ |
| ৬ | দর্শনা হল্ট | সকাল ০৯:০৩ | সকাল ০৯:০৩ |
| ৭ | চুয়াডাঙ্গা | সকাল ০৯:২৫ | সকাল ০৯:২৫ |
| ৮ | আলমডাঙ্গা | সকাল ০৯:৪৪ | সকাল ০৯:৪৪ |
| ৯ | পোড়াদহ | সকাল ১০:০০ | সকাল ১০:০০ |
| ১০ | মিরপুর | সকাল ১০:১৩ | সকাল ১০:১৩ |
| ১১ | ভেড়ামারা | সকাল ১০:২৫ | সকাল ১০:২৫ |
| ১২ | পাকশী | সকাল ১০:৩৯ | সকাল ১০:৩৯ |
| ১৩ | ঈশ্বরদী | সকাল ১০:৫০ | সকাল ১০:৫০ |
| ১৪ | আজিম নগর | সকাল ১১:২২ | সকাল ১১:২২ |
| ১৫ | রাজশাহী | দুপুর ১২:২০ | – |
৩. রাজশাহী টু খুলনা – সময়সূচী ও স্টেশন তালিকা (ট্রেন নং ৭১৬)
ফেরার পথে ট্রেনটি রাজশাহী জংশন থেকে দুপুর ২:৩০ মিনিটে ছাড়ে এবং রাত ৮:১৫/৮:১০ মিনিটে
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (রাজশাহী→খুলনা)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ১ | রাজশাহী | – | দুপুর ০২:৩০ |
| ২ | আজিম নগর | দুপুর ০২:৪৪ | দুপুর ০২:৪৪ |
| ৩ | ঈশ্বরদী | বিকাল ০৩:৩০ | বিকাল ০৩:৩০ |
| ৪ | পাকশী | বিকাল ০৩:৫৫ | বিকাল ০৩:৫৫ |
| ৫ | ভেড়ামারা | বিকাল ০৪:০৯ | বিকাল ০৪:০৯ |
| ৬ | মিরপুর | বিকাল ০৪:২২ | বিকাল ০৪:২২ |
| ৭ | পোড়াদহ | বিকাল ০৪:৩৪ | বিকাল ০৪:৩৪ |
| ৮ | আলমডাঙ্গা | বিকাল ০৪:৫০ | বিকাল ০৪:৫০ |
| ৯ | চুয়াডাঙ্গা | বিকাল ০৫:১০ | বিকাল ০৫:১০ |
| ১০ | দর্শনা হল্ট | বিকাল ০৫:৩৩ | বিকাল ০৫:৩৩ |
| ১১ | কোটচাঁদপুর | সন্ধ্যা ০৬:১৭ | সন্ধ্যা ০৬:১৭ |
| ১২ | মোবারকগঞ্জ | – | সন্ধ্যা ০৬:৩১ |
| ১৩ | যশোর | বিকাল ০৭:০৫ | রাত ০৭:১০ |
| ১৪ | নওয়াপাড়া | সন্ধ্যা ১৯:৩৭ | রাত ০৭:৩৭ |
| ১৫ | খুলনা | রাত ০৮:১৫ | – |
খুলনা জংশনে পৌঁছায়。
৪. কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটির দিন নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছু ভিন্নতা থাকলেও, সর্বশেষ আপডেট তথ্য অনুযায়ী:
ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন: শুক্রবার
এর মানে হলো:
-
শুক্রবার খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেন (৭১৫) চলাচল করে না
-
শুক্রবার রাজশাহী থেকে খুলনাগামী ট্রেন (৭১৬) চলাচল করে না
বিঃদ্রঃ: কিছু পুরনো সূত্রে মঙ্গলবার বা শনিবার বন্ধ বলে উল্লেখ থাকলেও, ২০২৪ সালের জানুয়ারির নতুন সময়সূচী অনুযায়ী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস শুক্রবার বন্ধ থাকে। ভ্রমণের আগে রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করে নেওয়া ভালো।
৫. কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের টিকিটের ভাড়া ২০২৬
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের টিকিটের মূল্য আসন বিভাগ অনুযায়ী নির্ধারিত। নিচে ২০২৬ সালের ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
ক. ভাড়া তালিকা (সূত্র-১)
| আসনের বিভাগ | টিকিটের মূল্য (১৫% ভ্যাটসহ) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৩৬০ টাকা |
| এসি সিট | ৮২৮ টাকা |
খ. ভাড়া তালিকা (সূত্র-২)
| আসনের বিভাগ | টিকিটের মূল্য (টাকায়) |
|---|---|
| শোভন | ২৬০ টাকা |
| শোভন চেয়ার | ৩১০ টাকা |
| প্রথম সিট | ৪১০ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ৫১৫ টাকা |
| এসি সিট | ৬১৫ টাকা |
বিঃদ্রঃ: ভাড়ার ক্ষেত্রে সূত্রভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে। টিকিট কাটার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সঠিক ভাড়া যাচাই করে নিন। অনলাইনে টিকিট বুকিং করলে প্রতি সিটের জন্য অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ যুক্ত হতে পারে।
৬. আধুনিক এলএইচবি কোচ ও সুবিধাসমূহ
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস বর্তমানে আধুনিক এলএইচবি (LHB) কোচ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এলএইচবি কোচের বিশেষ সুবিধাগুলো হলো:
| সুবিধা | বিবরণ |
|---|---|
| আধুনিক ডিজাইন | জার্মান প্রযুক্তিতে নির্মিত আধুনিক কোচ |
| আরামদায়ক আসন | হেলানো ও প্রশস্ত আসন |
| উচ্চ গতিবেগ | পুরাতন কোচের তুলনায় দ্রুতগতি |
| নিরাপত্তা | সংঘর্ষরোধী প্রযুক্তি |
| টেকসই | দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত কোচ |
ট্রেনটিতে রয়েছে:
-
১টি এসি চেয়ার কোচ
-
৮টি শোভন চেয়ার কোচ
-
২টি পাওয়ার কার
৭. খুলনা-রাজশাহী রুটের অন্যান্য ট্রেনের সাথে তুলনা
এই রুটে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ছাড়াও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস নামে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | খুলনা ছাড়ে | রাজশাহী ছাড়ে | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|
| কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস | ৭১৫/৭১৬ | সকাল ০৬:৪৫ | দুপুর ০২:৩০ | শুক্রবার |
| সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস | ৭৬১/৭৬২ | সন্ধ্যা ০৬:০০ | সকাল ০৬:৪০ | সোমবার |
৮. টিকিট অনলাইন বুকিংয়ের নিয়ম
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের টিকিট পেতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
-
অনলাইনে টিকিট কাটুন: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায়
-
যাত্রার ৭ দিন আগে বুকিং দিন: টিকিট সাধারণত যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় খোলা হয়
-
কাউন্টার থেকেও টিকিট পাবেন: স্টেশনের কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকিট সংগ্রহ করা যায়
বিঃদ্রঃ: ভ্রমণের আগে তারিখ, কোচ ক্লাস ও অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিন。
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ভ্রমণ টিপস
-
টিকিট আগে বুকিং করুন: যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন
-
সঠিক দিন বেছে নিন: শুক্রবার কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে। এই দিনে যাত্রা পরিকল্পনা করলে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন
-
স্টেশনে আগে পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যান
-
মধ্যবর্তী স্টেশনে নামলে সতর্ক থাকুন: ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে চলে, তাই আপনার স্টেশন আসার আগেই প্রস্তুত থাকুন
-
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে রাখুন: দীর্ঘ পথের যাত্রায় খাবার ও পানি সাথে রাখা ভালো। ট্রেনে খাবার ক্যান্টিন আছে
-
আসন নির্বাচন: এসি সিট এবং শোভন চেয়ার সহ একাধিক আসন বিভাগ থেকে বাজেট ও আরাম অনুযায়ী পছন্দ করতে পারেন
উপসংহার
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস খুলনা-রাজশাহী রুটের একটি নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেন। ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর একটি। ২০২৬ সালেও ট্রেনটি তার নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন চলাচল করছে।
কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
✅ প্রথম ব্রডগেজ আন্তঃনগর ট্রেন: বাংলাদেশের ব্রডগেজ লাইনে চলাচলকারী প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন
✅ আধুনিক এলএইচবি কোচ: জার্মান প্রযুক্তির আধুনিক কোচে যাত্রা
✅ যাত্রাপথে সাশ্রয়ী ভাড়া: শোভন চেয়ারে ৩১০-৩৬০ টাকা
✅ ১৩টি স্টেশনে বিরতি: যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পোড়াদহ, ঈশ্বরদীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে
✅ ঐতিহ্যবাহী ট্রেন: প্রায় ৪০ বছর ধরে যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছে
ট্রেনটির যাত্রাপথে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোরসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরের স্টেশনগুলো পড়ায়, এই এলাকার যাত্রীরাও সহজেই ট্রেনে উঠানামা করতে পারেন। বিশেষ করে ঈশ্বরদী ও পোড়াদহ স্টেশন পাবনা ও কুষ্টিয়ার যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যাত্রার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন—শুক্রবার কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে। এই দিনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন, যা সোমবার বন্ধ থাকে।
টিকিট আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং দেওয়া ভালো। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করলে ঝামেলা কমে এবং নিশ্চিত আসন পাওয়া যায়।
২০২৬ সালে আপনার খুলনা-রাজশাহী ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে, আরামদায়ক ও নির্ভরযোগ্য ভ্রমণের জন্য কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস হতে পারে সেরা বাছাই। সঠিক সময়সূচী মেনে টিকিট কেটে নিন এবং নিশ্চিন্তে যাত্রা শুরু করুন। আপনার যাত্রা শুভ হোক!
Frequently Asked Questions (FAQ) – ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস খুলনা থেকে কখন ছাড়ে?
উত্তর: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭১৫) খুলনা থেকে সকাল ৬:৪৫ মিনিটে ছাড়ে。
প্রশ্ন ২: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস রাজশাহী পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি রাজশাহী পৌঁছায় দুপুর ১২:২০ মিনিটে。
প্রশ্ন ৩: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি কোন দিন?
উত্তর: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস শুক্রবার বন্ধ থাকে।
প্রশ্ন ৪: রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
উত্তর: রাজশাহী থেকে ট্রেনটি (৭১৬) ছাড়ে দুপুর ২:৩০ মিনিটে。
প্রশ্ন ৫: রাজশাহী থেকে খুলনা পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি খুলনা পৌঁছায় রাত ৮:১৫ মিনিটে。
প্রশ্ন ৬: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস কবে থেকে চালু হয়েছে?
উত্তর: ১৯৮৬ সালের ১লা মে যাত্রা শুরু করে。
প্রশ্ন ৭: ট্রেনটির ট্রেন নম্বর কত?
উত্তর: খুলনা→রাজশাহী ৭১৫ এবং রাজশাহী→খুলনা ৭১৬。
প্রশ্ন ৮: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের ভাড়া কত?
উত্তর: শোভন চেয়ার ৩৬০ টাকা, এসি সিট ৮২৮ টাকা। অন্য সূত্র অনুযায়ী শোভন ২৬০ টাকা, শোভন চেয়ার ৩১০ টাকা。
প্রশ্ন ৯: ট্রেনটি কোন কোন স্টেশনে থামে?
উত্তর: নওয়াপাড়া, যশোর, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, পোড়াদহ, মিরপুর, ভেড়ামারা, পাকশী, ঈশ্বরদী, আজিম নগর。
প্রশ্ন ১০: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে এসি বার্থ সুবিধা আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, বর্তমান সূত্র অনুযায়ী ট্রেনটিতে এসি সিট ও শোভন চেয়ার সুবিধা আছে।
প্রশ্ন ১১: অনলাইনে টিকিট কাটা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায়。
প্রশ্ন ১২: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস কোন ধরনের কোচ ব্যবহার করে?
উত্তর: বর্তমানে ট্রেনটি এলএইচবি (LHB) কোচ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে。
প্রশ্ন ১৩: ট্রেনটির মোট দূরত্ব কত কিলোমিটার?
উত্তর: খুলনা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত প্রায় ২৬৩ কিলোমিটার。
প্রশ্ন ১৪: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রা সময় কত ঘণ্টা?
উত্তর: প্রায় ৫ ঘণ্টা ২৫ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টা。
প্রশ্ন ১৫: ঈশ্বরদী স্টেশনে ট্রেন কখন পৌঁছায়?
উত্তর: খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনটি ঈশ্বরদী পৌঁছায় সকাল ১০:৫০ মিনিটে。
প্রশ্ন ১৬: ট্রেনের ভেতরে খাবারের ব্যবস্থা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনটিতে খাদ্য সুবিধা আছে。
প্রশ্ন ১৭: মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত সিট আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের সব আন্তঃনগর ট্রেনে মহিলা সংরক্ষিত বগি থাকে।
প্রশ্ন ১৮: চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে ট্রেন কখন পৌঁছায়?
উত্তর: খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনটি চুয়াডাঙ্গা পৌঁছায় সকাল ৯:২৫ মিনিটে。
প্রশ্ন ১৯: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস বনাম সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস কোনটা ভালো?
উত্তর: দুই ট্রেনই জনপ্রিয়। কপোতাক্ষ সকালে ছাড়ে (৬:৪৫-এ), সাগরদাঁড়ি সন্ধ্যায় (৬:০০-এ)। সময় অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।
প্রশ্ন ২০: ট্রেনের টিকিট কতদিন আগে বুকিং দেওয়া যায়?
উত্তর: যাত্রার ৭ দিন আগে থেকে অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়া যায়。
প্রশ্ন ২১: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস শুক্রবার চলে?
উত্তর: না, শুক্রবার বন্ধ থাকে。
প্রশ্ন ২২: পোড়াদহ স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনটি পোড়াদহ পৌঁছায় সকাল ১০:০০ মিনিটে。
প্রশ্ন ২৩: ট্রেনটির বিনোদন সুবিধা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে বিনোদন সুবিধা আছে。
প্রশ্ন ২৪: ট্রেন মিস করলে টিকিট ফেরত পাওয়া যায়?
উত্তর: নির্দিষ্ট নিয়মে ট্রেন ছাড়ার আগে টিকিট জমা দিলে কিছু টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২৫: শিশুদের টিকিটের হার কত?
উত্তর: ৩ বছরের কম শিশুদের বিনামূল্যে, ৩-১২ বছর বয়সীদের সাধারণ ভাড়ার অর্ধেক।
প্রশ্ন ২৬: বর্ষাকালে ট্রেন চলে?
উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় চলে, তবে ভারী বৃষ্টিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
প্রশ্ন ২৭: ট্রেনের সঠিক সময়সূচী কোথায় পাব?
উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট railway.gov.bd ও eticket.railway.gov.bd-এ সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২৮: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের নামকরণ怎麼?
উত্তর: খুলনার অদূরে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদীর নামানুসারে ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে。
প্রশ্ন ২৯: ট্রেনটির মোট বগি কতটি?
উত্তর: কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসে ১১টি এলএইচবি কোচ রয়েছে。
প্রশ্ন ৩০: যশোর স্টেশনে ট্রেন কখন পৌঁছায়?
উত্তর: খুলনা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেনটি যশোর পৌঁছায় সকাল ৭:৪৯ মিনিটে






