রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ – খুলনা টু চিলাহাটি
উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী শহর চিলাহাটি থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন্দরনগরী খুলনা পর্যন্ত দীর্ঘ পথের যাত্রীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক বাহন হলো রূপসা এক্সপ্রেস। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই আন্তঃনগর ট্রেনটি ১৯৮৬ সালের ৫ মে যাত্রা শুরু করে এবং দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে যাত্রীদের কাছে একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে টিকে আছে। এটি খুলনা-চিলাহাটি রুটের অপর ট্রেন সীমান্ত এক্সপ্রেসের (যা রাতে চলে) দিনের বেলার কাউন্টারপার্ট হিসেবে কাজ করে।
খুলনা থেকে চিলাহাটির রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৪৪৬ কিলোমিটার। রূপসা এক্সপ্রেস এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে সময় নেয় প্রায় ৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। সকাল বেলা খুলনা থেকে যাত্রা শুরু করে এটি বিকেলে চিলাহাটিতে পৌঁছায় এবং বিপরীত দিকেও একই রকম সময়সূচী মেনে চলে।
রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এটি সীমান্ত এক্সপ্রেসের সঙ্গে রেক ভাগাভাগি করে। অর্থাৎ, রূপসা এক্সপ্রেস যখন দিনের বেলা চলাচল করে, সীমান্ত এক্সপ্রেস রাতের বেলা একই রুটে চলাচল করে। দুই প্রান্ত থেকে ২টি রেক এই ট্রেন দুটির জন্য ব্যবহৃত হয়। ট্রেনটিতে যাত্রীদের জন্য রয়েছে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট ও এসি বার্থ—সব ধরনের আসন সুবিধা।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—রূপসা এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। প্রতি বৃহস্পতিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন। বৃহস্পতিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিনই এটি নিয়মিত সেবা দিয়ে থাকে।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানবো রূপসা এক্সপ্রেসের সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, ২০২৬ সালের ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম এবং যাত্রার আগে করণীয় বিষয়গুলো। নিচের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।
রূপসা এক্সপ্রেসের বিস্তারিত সময়সূচী ও ভাড়া
১. ট্রেন সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | রূপসা এক্সপ্রেস (Rupsha Express) |
| ট্রেন নম্বর (খুলনা→চিলাহাটি) | ৭২৭ |
| ট্রেন নম্বর (চিলাহাটি→খুলনা) | ৭২৮ |
| রুট | খুলনা ↔ চিলাহাটি |
| মোট দূরত্ব | প্রায় ৪৪৬ কিলোমিটার |
| মোট ভ্রমণ সময় | প্রায় ৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট – ৯ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট |
| ট্রেনের ধরন | আন্তঃনগর (দিবাকালীন) |
| সর্বপ্রথম চালু | ৫ মে ১৯৮৬ |
| সাপ্তাহিক ছুটির দিন | বৃহস্পতিবার |
| মোট কম্পার্টমেন্ট | ১১টি |
| এসি কম্পার্টমেন্ট | ৪টি |
| ব্যবহৃত লাইন | চিলাহাটি-পার্বতীপুর-সান্তাহার-দর্শনা-খুলনা লাইন |
২. খুলনা টু চিলাহাটি – সময়সূচী ও স্টেশন তালিকা (ট্রেন নং ৭২৭)
রূপসা এক্সপ্রেস (৭২৭) খুলনা জংশন থেকে সকাল ৭:১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং বিকাল ৫:০০/৫:০৫ মিনিটে চিলাহাটি জংশনে পৌঁছায়। ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন বৃহস্পতিবার。
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (খুলনা→চিলাহাটি)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ১ | খুলনা | – | সকাল ০৭:১৫ |
| ২ | নওয়াপাড়া | সকাল ০৭:৪৮ | সকাল ০৭:৫১ |
| ৩ | যশোর | সকাল ০৮:১৯ | সকাল ০৮:২৩ |
| ৪ | মোবারকগঞ্জ | সকাল ০৮:৫০ | সকাল ০৮:৫২ |
| ৫ | কোটচাঁদপুর | সকাল ০৯:০৩ | সকাল ০৯:০৫ |
| ৬ | দর্শনা হল্ট | সকাল ০৯:৪১ | সকাল ০৯:৪৪ |
| ৭ | চুয়াডাঙ্গা | সকাল ১০:০৩ | সকাল ১০:০৬ |
| ৮ | আলমডাঙ্গা | সকাল ১০:২১ | সকাল ১০:২৩ |
| ৯ | পোড়াদহ | সকাল ১০:৩৯ | সকাল ১০:৪২ |
| ১০ | ভেড়ামারা | সকাল ১০:৫৯ | সকাল ১১:০২ |
| ১১ | পাকশী | সকাল ১১:১৪ | সকাল ১১:১৬ |
| ১২ | ঈশ্বরদী | সকাল ১১:২৫ | সকাল ১১:৪০ |
| ১৩ | নাটোর | দুপুর ১২:১৩ | দুপুর ১২:১৬ |
| ১৪ | আহসানগঞ্জ | দুপুর ১২:৫৭ | বিকাল ০১:০০ |
| ১৫ | সান্তাহার | বিকাল ০১:২৫ | বিকাল ০১:৩০ |
| ১৬ | আক্কেলপুর | বিকাল ০১:৫০ | বিকাল ০১:৫২ |
| ১৭ | জয়পুরহাট | বিকাল ০২:০৫ | বিকাল ০২:০৮ |
| ১৮ | বিরামপুর | বিকাল ০২:৩৬ | বিকাল ০২:৩৮ |
| ১৯ | ফুলবাড়ি | বিকাল ০২:৪৯ | বিকাল ০২:৫১ |
| ২০ | পার্বতীপুর | বিকাল ০৩:১০ | বিকাল ০৩:২০ |
| ২১ | সৈয়দপুর | বিকাল ০৩:৩৭ | বিকাল ০৩:৪২ |
| ২২ | নীলফামারী | বিকাল ০৪:০৫ | বিকাল ০৪:০৮ |
| ২৩ | ডোমার | বিকাল ০৪:২৪ | বিকাল ০৪:২৭ |
| ২৪ | চিলাহাটি | বিকাল ০৫:০০ | – |
৩. চিলাহাটি টু খুলনা – সময়সূচী ও স্টেশন তালিকা (ট্রেন নং ৭২৮)
ফেরার পথে ট্রেনটি চিলাহাটি জংশন থেকে সকাল ৮:৩০ মিনিটে ছাড়ে এবং সন্ধ্যা ৬:২৫/৬:২০ মিনিটে খুলনা জংশনে পৌঁছায়। ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন বৃহস্পতিবার。
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (চিলাহাটি→খুলনা)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ১ | চিলাহাটি | – | সকাল ০৮:৩০ |
| ২ | ডোমার | সকাল ০৮:৪৮ | সকাল ০৮:৫১ |
| ৩ | নীলফামারী | সকাল ০৯:০৭ | সকাল ০৯:১০ |
| ৪ | সৈয়দপুর | সকাল ০৯:৩০ | সকাল ০৯:৩৫ |
| ৫ | পার্বতীপুর | সকাল ০৯:৫৫ | সকাল ১০:১৫ |
| ৬ | ফুলবাড়ি | সকাল ১০:৩৬ | সকাল ১০:৩৯ |
| ৭ | বিরামপুর | সকাল ১০:৫০ | সকাল ১০:৫৩ |
| ৮ | জয়পুরহাট | সকাল ১১:২২ | সকাল ১১:২৫ |
| ৯ | আক্কেলপুর | সকাল ১১:৩৯ | সকাল ১১:৪১ |
| ১০ | সান্তাহার | দুপুর ১২:০০ | দুপুর ১২:০৫ |
| ১১ | আহসানগঞ্জ | দুপুর ১২:২৮ | দুপুর ১২:৩১ |
| ১২ | নাটোর | দুপুর ১২:৫৫ | দুপুর ০১:০০ |
| ১৩ | ঈশ্বরদী | দুপুর ০১:৪০ | দুপুর ০২:০০ |
| ১৪ | পাকশী | দুপুর ০২:১০ | দুপুর ০২:১২ |
| ১৫ | ভেড়ামারা | দুপুর ০২:২৪ | দুপুর ০২:২৭ |
| ১৬ | পোড়াদহ | দুপুর ০২:৪৪ | দুপুর ০২:৪৭ |
| ১৭ | আলমডাঙ্গা | দুপুর ০৩:০২ | দুপুর ০৩:০৪ |
| ১৮ | চুয়াডাঙ্গা | দুপুর ০৩:২০ | দুপুর ০৩:২৩ |
| ১৯ | দর্শনা হল্ট | দুপুর ০৩:৪৫ | দুপুর ০৩:৪৮ |
| ২০ | কোটচাঁদপুর | বিকাল ০৪:১৪ | বিকাল ০৪:১৬ |
| ২১ | মোবারকগঞ্জ | বিকাল ০৪:২৮ | বিকাল ০৪:৩০ |
| ২২ | যশোর | বিকাল ০৪:৫৮ | বিকাল ০৫:০৮ |
| ২৩ | নওয়াপাড়া | বিকাল ০৫:৩৬ | বিকাল ০৫:৩৯ |
| ২৪ | খুলনা | সন্ধ্যা ০৬:২৫ | – |
৪. গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনসমূহে যাত্রাবিরতির সময়
নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে রূপসা এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির সময় উল্লেখ করা হলো:
| স্টেশন | খুলনা→চিলাহাটি (৭২৭) | চিলাহাটি→খুলনা (৭২৮) |
|---|---|---|
| খুলনা | সকাল ০৭:১৫ (ছাড়ে) | সন্ধ্যা ০৬:২৫ (পৌঁছে) |
| যশোর | সকাল ০৮:১৯ – ০৮:২৩ | বিকাল ০৪:৫৮ – ০৫:০৮ |
| চুয়াডাঙ্গা | সকাল ১০:০৩ – ১০:০৬ | দুপুর ০৩:২০ – ০৩:২৩ |
| পোড়াদহ | সকাল ১০:৩৯ – ১০:৪২ | দুপুর ০২:৪৪ – ০২:৪৭ |
| ঈশ্বরদী | সকাল ১১:২৫ – ১১:৪০ | দুপুর ০১:৪০ – ০২:০০ |
| সান্তাহার | বিকাল ০১:২৫ – ০১:৩০ | দুপুর ১২:০০ – ১২:০৫ |
| পার্বতীপুর | বিকাল ০৩:১০ – ০৩:২০ | সকাল ০৯:৫৫ – ১০:১৫ |
| চিলাহাটি | বিকাল ০৫:০০ (পৌঁছে) | সকাল ০৮:৩০ (ছাড়ে) |
৫. রূপসা এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি
রূপসা এক্সপ্রেস প্রতি বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। এর মানে হলো:
-
বৃহস্পতিবার খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী ট্রেন (৭২৭) চলাচল করে না
-
বৃহস্পতিবার চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী ট্রেন (৭২৮) চলাচল করে না
সতর্কতা: আপনি যদি বৃহস্পতিবার যাত্রা করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে রূপসা এক্সপ্রেস পাবেন না। বিকল্প হিসেবে সীমান্ত এক্সপ্রেস (সোমবার বন্ধ) ব্যবহার করতে পারেন।
৬. রূপসা এক্সপ্রেসের টিকিটের ভাড়া ২০২৬
রূপসা এক্সপ্রেসের টিকিটের মূল্য আসন বিভাগ অনুযায়ী নির্ধারিত। নিচে ২০২৬ সালের ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো (আনুমানিক):
ক. খুলনা টু চিলাহাটি (পুরো পথ) – ভাড়া তালিকা
| আসনের বিভাগ | আনুমানিক ভাড়া (টাকায়) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৩০০ – ৪০০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৭০০ – ৮৫০ টাকা |
| এসি সিট | ৮৫০ – ১০০০ টাকা |
| এসি বার্থ | ১২০০ – ১৪০০ টাকা |
খ. গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনভিত্তিক ভাড়া (আনুমানিক)
| রুট | শোভন চেয়ার | স্নিগ্ধা |
|---|---|---|
| খুলনা → যশোর | ৪০-৫০ টাকা | ৮০-১০০ টাকা |
| খুলনা → চুয়াডাঙ্গা | ৯০-১১০ টাকা | ১৮০-২২০ টাকা |
| খুলনা → পোড়াদহ | ১২০-১৪০ টাকা | ২৫০-৩০০ টাকা |
| খুলনা → ঈশ্বরদী | ১৬০-১৮০ টাকা | ৩২০-৩৮০ টাকা |
| খুলনা → সান্তাহার | ২২০-২৫০ টাকা | ৪৫০-৫২০ টাকা |
| খুলনা → পার্বতীপুর | ২৮০-৩১০ টাকা | ৫৫০-৬৫০ টাকা |
| খুলনা → চিলাহাটি | ৩৫০-৪০০ টাকা | ৭৫০-৮৫০ টাকা |
বিঃদ্রঃ: অনলাইনে টিকিট বুকিং করলে প্রতি সিটের জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। সঠিক ভাড়া জানতে টিকিট কাটার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাচাই করে নিন।
৭. রূপসা এক্সপ্রেসের ইতিহাস ও বিশেষত্ব
রূপসা এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ঐতিহাসিক ট্রেন:
-
প্রথম চালু: ১৯৮৬ সালের ৫ মে
-
নামকরণ: খুলনার অদূরে রূপসা নদীর নামে এই ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে
-
গুরুত্ব: এটি খুলনা-চিলাহাটি রুটের দিনের বেলার প্রধান ট্রেন
-
স্বীকৃতি: সীমান্ত এক্সপ্রেসের (রাতের ট্রেন) সঙ্গে রেক ভাগাভাগি করে
৮. রূপসা এক্সপ্রেসের আধুনিক কোচ ও সুবিধাসমূহ
রূপসা এক্সপ্রেস যাত্রীদের জন্য নানাবিধ সুবিধা নিশ্চিত করে:
| সুবিধা | বিবরণ |
|---|---|
| আধুনিক কোচ | ১১টি কম্পার্টমেন্ট, যার মধ্যে ৪টি ফুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত |
| ক্যাটারিং | ১টি খাবার কম্পার্টমেন্ট |
| আসন বিন্যাস | শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ |
| মালপত্র সুবিধা | শীতাতপ শ্রেণীতে ৫৬ কেজি, প্রথম শ্রেণীতে ৩৭.৫ কেজি, শোভনে ২৮ কেজি |
| বিনোদন সুবিধা | নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার অভিজ্ঞতা |
৯. খুলনা-চিলাহাটি রুটের অন্যান্য ট্রেনের সাথে তুলনা
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | খুলনা ছাড়ে | চিলাহাটি পৌঁছায় | ধরন | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|---|
| রূপসা এক্সপ্রেস | ৭২৭/৭২৮ | সকাল ০৭:১৫ | বিকাল ০৫:০০ | দিনের ট্রেন | বৃহস্পতিবার |
| সীমান্ত এক্সপ্রেস | ৭৪৭/৭৪৮ | রাত ০৯:১৫ | সকাল ০৬:৪৫ | রাতের ট্রেন | সোমবার |
রূপসা এক্সপ্রেস দিবাকালীন ট্রেন হওয়ায় যাত্রীরা দিনের আলোয় ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে সীমান্ত এক্সপ্রেস রাতের ট্রেন হিসেবে রাতের যাত্রীদের জন্য উপযোগী। উভয় ট্রেনই স্বতন্ত্র সাপ্তাহিক ছুটির দিন অনুসরণ করে যাতে যাত্রীরা সপ্তাহের যেকোনো দিনেই অন্তত একটি ট্রেন পায়।
১০. টিকিট অনলাইন বুকিংয়ের নিয়ম
রূপসা এক্সপ্রেসের টিকিট পেতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
-
অনলাইনে টিকিট কাটুন: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায়
-
মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করুন: Rail Sheba অ্যাপ থেকেও টিকিট বুকিং করা যায়
-
যাত্রার ৭ দিন আগে বুকিং দিন: টিকিট সাধারণত যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় খোলা হয়
-
কাউন্টার থেকেও টিকিট পাবেন: স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট কেনা যায়, তবে অনলাইনে দ্রুত শেষ হয়ে যায়
১১. যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
-
লাগেজ নিয়ম: শীতাতপ শ্রেণীর যাত্রী ৫৬ কেজি, শোভন শ্রেণীর যাত্রী ২৮ কেজি
-
বিরতির সময়: ঈশ্বরদী স্টেশনে ট্রেনটি ১৫ মিনিট বিরতি নেয়
-
পার্বতীপুর স্টেশন: এখানেও ১০ মিনিটের বিরতি আছে
-
ট্রেনের গতিবেগ: প্রায় ৮০ কিমি/ঘন্টা
রূপসা এক্সপ্রেস ভ্রমণ টিপস
-
টিকিট আগে বুকিং করুন: যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন
-
সঠিক দিন বেছে নিন: বৃহস্পতিবার যাত্রা করলে এই ট্রেন পাবেন না
-
স্টেশনে আগে পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যান
-
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে রাখুন: দীর্ঘ পথের যাত্রায় খাবার ও পানি সাথে রাখা ভালো
-
ঈশ্বরদীতে বিরতি: ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে ১৫ মিনিট বিরতি নেয়, এই সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিন
-
মধ্যবর্তী স্টেশনে নামতে চাইলে সতর্ক থাকুন: ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে চলে, তাই আপনার স্টেশন আসার আগেই প্রস্তুত থাকুন
উপসংহার
রূপসা এক্সপ্রেস খুলনা-চিলাহাটি রুটের একটি নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেন। ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর একটি। ২০২৬ সালেও ট্রেনটি তার নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে বৃহস্পতিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন চলাচল করছে।
রূপসা এক্সপ্রেসের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
✅ দিবাকালীন ট্রেন: খুলনা থেকে সকাল ০৭:১৫-এ ছেড়ে বিকাল ০৫:০০-এ চিলাহাটি পৌঁছায়
✅ দীর্ঘ রুট: ৪৪৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় প্রায় ৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে
✅ আধুনিক সুবিধা: ৪টি এসি কম্পার্টমেন্ট, ক্যাটারিং সুবিধা
✅ সাশ্রয়ী ভাড়া: শোভন চেয়ারে প্রায় ৩০০ থেকে শুরু
✅ ঐতিহ্যবাহী ট্রেন: ১৯৮৬ সাল থেকে যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছে
ট্রেনটির যাত্রাপথে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারীসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরের স্টেশনগুলো পড়ায়, এই এলাকার যাত্রীরাও সহজেই ট্রেনে উঠানামা করতে পারেন। বিশেষ করে ঈশ্বরদী ও সান্তাহারের যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যাত্রার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন—বৃহস্পতিবার রূপসা এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে। এই দিনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে সীমান্ত এক্সপ্রেস (সোমবার বন্ধ) বেছে নিতে পারেন।
টিকিট আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং দেওয়া ভালো। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করলে ঝামেলা কমে।
২০২৬ সালে আপনার উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ বা উল্টো পথে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে, আরামদায়ক ও নির্ভরযোগ্য ভ্রমণের জন্য রূপসা এক্সপ্রেস হতে পারে সেরা বাছাই। সঠিক সময়সূচী মেনে টিকিট কেটে নিন এবং নিশ্চিন্তে যাত্রা শুরু করুন। আপনার যাত্রা শুভ হোক
❓ Frequently Asked Questions (FAQ) – ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: রূপসা এক্সপ্রেস খুলনা থেকে কখন ছাড়ে?
উত্তর: রূপসা এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭২৭) খুলনা থেকে সকাল ০৭:১৫ মিনিটে ছাড়ে。
প্রশ্ন ২: রূপসা এক্সপ্রেস চিলাহাটি পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি চিলাহাটি পৌঁছায় বিকাল ০৫:০০/০৫:০৫ মিনিটে।
প্রশ্ন ৩: রূপসা এক্সপ্রেস সপ্তাহের কোন দিন বন্ধ থাকে?
উত্তর: রূপসা এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।
প্রশ্ন ৪: চিলাহাটি থেকে রূপসা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
উত্তর: চিলাহাটি থেকে ট্রেনটি (৭২৮) ছাড়ে সকাল ০৮:৩০ মিনিটে।
প্রশ্ন ৫: চিলাহাটি থেকে খুলনা পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি খুলনা পৌঁছায় সন্ধ্যা ০৬:২৫/০৬:২০ মিনিটে।
প্রশ্ন ৬: রূপসা এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
উত্তর: খুলনা→চিলাহাটি ৭২৭ এবং চিলাহাটি→খুলনা ৭২৮।
প্রশ্ন ৭: রূপসা এক্সপ্রেস কবে থেকে চালু হয়েছে?
উত্তর: ১৯৮৬ সালের ৫ মে যাত্রা শুরু করে।
প্রশ্ন ৮: ট্রেনটির মোট যাত্রা সময় কত ঘণ্টা?
উত্তর: প্রায় ৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।
প্রশ্ন ৯: রূপসা এক্সপ্রেসের টিকিটের ভাড়া কত?
উত্তর: শোভন চেয়ার ৩০০-৪০০ টাকা, স্নিগ্ধা ৭০০-৮৫০ টাকা, এসি সিট ৮৫০-১০০০ টাকা, এসি বার্থ ১২০০-১৪০০ টাকা (আনুমানিক)।
প্রশ্ন ১০: ট্রেনটি কোন কোন স্টেশনে থামে?
উত্তর: নওয়াপাড়া, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, পোড়াদহ, ঈশ্বরদী, নাটোর, সান্তাহার, জয়পুরহাট, পার্বতীপুর, নীলফামারী, ডোমারসহ মোট ২৪টি স্টেশনে।
প্রশ্ন ১১: ট্রেনের ভেতরে খাবার ব্যবস্থা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনটিতে ১টি খাবার কম্পার্টমেন্ট আছে।
প্রশ্ন ১২: অনলাইনে টিকিট কাটা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায়।
প্রশ্ন ১৩: ঈশ্বরদী স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী ট্রেনটি ঈশ্বরদী পৌঁছায় সকাল ১১:২৫ মিনিটে ও ছাড়ে ১১:৪০ মিনিটে।
প্রশ্ন ১৪: সান্তাহার স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: বিকাল ০১:২৫ মিনিটে সান্তাহার পৌঁছে ও ০১:৩০ মিনিটে ছাড়ে।
প্রশ্ন ১৫: পার্বতীপুর স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: বিকাল ০৩:১০ মিনিটে পৌঁছে ও ০৩:২০ মিনিটে ছাড়ে।
প্রশ্ন ১৬: ট্রেনটিতে কয়টি এসি কম্পার্টমেন্ট আছে?
উত্তর: রূপসা এক্সপ্রেসে মোট ৪টি ফুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কম্পার্টমেন্ট আছে।
প্রশ্ন ১৭: রূপসা এক্সপ্রেস বনাম সীমান্ত এক্সপ্রেস কোনটা ভালো?
উত্তর: দুই ট্রেনই ভালো। রূপসা এক্সপ্রেস দিনে চলে, সীমান্ত এক্সপ্রেস রাতে চলে। সময় ও রুট অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।
প্রশ্ন ১৮: বৃহস্পতিবার খুলনা থেকে চিলাহাটি যেতে কোন ট্রেন ভালো?
উত্তর: বৃহস্পতিবার রূপসা এক্সপ্রেস বন্ধ থাকায় সীমান্ত এক্সপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন।
প্রশ্ন ১৯: ট্রেনের টিকিট কতদিন আগে বুকিং দেওয়া যায়?
উত্তর: যাত্রার ৭ দিন আগে থেকে অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়া যায়।
প্রশ্ন ২০: ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ কত?
উত্তর: প্রায় ৮০ কিমি/ঘন্টা।
প্রশ্ন ২১: ট্রেন মিস করলে টিকিট ফেরত পাওয়া যায়?
উত্তর: নির্দিষ্ট নিয়মে ট্রেন ছাড়ার আগে টিকিট জমা দিলে কিছু টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২২: বর্ষাকালে ট্রেন চলে?
উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় চলে, তবে ভারী বৃষ্টিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
প্রশ্ন ২৩: ট্রেনে লাগেজ নেওয়ার সীমা কত?
উত্তর: এসি শ্রেণীতে ৫৬ কেজি, প্রথম শ্রেণীতে ৩৭.৫ কেজি, শোভনে ২৮ কেজি。
প্রশ্ন ২৪: ট্রেনটির মোট কম্পার্টমেন্ট কতটি?
উত্তর: রূপসা এক্সপ্রেসে মোট ১১টি কম্পার্টমেন্ট আছে।
প্রশ্ন ২৫: রূপসা এক্সপ্রেসের নামকরণ为什么?
উত্তর: খুলনার অদূরে অবস্থিত রূপসা নদীর নামানুসারে ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ২৬: যাত্রাপথের দূরত্ব কত কিলোমিটার?
উত্তর: খুলনা থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত প্রায় ৪৪৬ কিলোমিটার।
প্রশ্ন ২৭: যশোর স্টেশনে কয় মিনিট বিরতি?
উত্তর: খুলনা→চিলাহাটি রুটে যশোরে ৪ মিনিট এবং বিপরীত রুটে ১০ মিনিট বিরতি
প্রশ্ন ২৮: পোড়াদহ স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী ট্রেনটি পোড়াদহ পৌঁছায় সকাল ১০:৩৯ মিনিটে。
প্রশ্ন ২৯: ট্রেনের সঠিক সময়সূচী কোথায় পাব?
উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট railway.gov.bd ও মোবাইল অ্যাপে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩০: রূপসা এক্সপ্রেস ২০২৬ সালের সময়সূচী কি পরিবর্তন হয়েছে?
উত্তর: সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সময়সূচী উল্লেখিত সময়েই বহাল রয়েছে。ভ্রমণের আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একবার দেখে নেওয়া ভালো।







