একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬

By jihad

Updated on:

একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬ঃ আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় যাত্রীবন্ধুরা।
একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে যাতায়াতের পরিকল্পনা করছেন? অথবা এই গুরুত্বপূর্ণ রুটের ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন । বাংলাদেশের রেলপথ যোগযোগ ব্যাবস্থা দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রেন যাত্রীদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিকল্প। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সাথে রাজধানী ঢাকার সংযোগ স্থাপনে রেলপথের ভূমিকা অপরিসীম। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর হয়ে ঢাকা—এই দীর্ঘ পথের যাত্রীদের জন্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলো এক প্রকার জীবনরেখা।

একতা এক্সপ্রেস  তেমনি একটি আন্তঃনগর ট্রেন, যা প্রতিদিন পঞ্চগড় থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে পঞ্চগড় রুটে নিয়মিত চলাচল করে।ট্রেনটির নামকরণের পেছনে রয়েছে একতা ও সংহতির প্রতীক। এটি শুধু একটি ট্রেন নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষদের সাথে রাজধানীর সেতুবন্ধন তৈরির একটি মাধ্যম।যাঁরা ব্যবসার প্রয়োজনে, চিকিৎসার জন্য, পড়াশোনার সুযোগে কিংবা পরিবার-পরিজনের সাথে দেখা করতে ঢাকায় আসেন বা ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে যান, তাঁদের কাছে এই ট্রেনটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সময়ানুবর্তিতা। বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় এটি বেশ সময়নিষ্ঠ। আর এটির কোনো সাপ্তাহিক ছুটি না থাকায় সপ্তাহের সাত দিনই যাত্রীরা এই ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পান। দীর্ঘ রুটে চলাচল করলেও ট্রেনটিতে রয়েছে শোভন চেয়ার, এসি চেয়ার ও এসি স্লিপার—তিন ধরনের আসন ব্যবস্থাফলে ভিন্ন ভিন্ন বাজেটের যাত্রীরা নিজেদের সামর্থ্য ও আরামের চাহিদা অনুযায়ী আসন নির্বাচন করতে পারেন।তবে একটি ট্রেনযাত্রা সফল ও ঝামেলামুক্ত করতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সময়সূচী ও ভাড়ার তথ্য। অনেক সময় পুরনো তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরিকল্পনা করলে স্টেশনে গিয়ে হতাশ হতে হয়। আবার কেউ কেউ সময়সূচী সম্পর্কে না জেনেই ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন, ফলে ট্রেন মিস করার মতো ঘটনাও ঘটে। তাই যাত্রীদের জন্য হালনাগাদ ও নির্ভুল সময়সূচী এবং ভাড়ার তালিকা জানা আবশ্যক।

২০২৬ সালের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন থাকে।  রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সময়সূচীতে কিছুটা পরিবর্তন আনে কি না, ভাড়া বাড়ে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই লেখায় আমি সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখানে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী, স্টেশনভিত্তিক আগমন-প্রস্থানের সময়, ভাড়ার তালিকা, টিকিট কাটার সহজ পদ্ধতি, লাইভ ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা এবং যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য তুলে ধরা হলো।

একটি কথা আগেই বলে রাখা ভালো—এখানে প্রদত্ত তথ্য যাত্রীদের সুবিধার জন্য সংকলিত।তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে সময়সূচী ও ভাড়ায় সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে।তাই ট্রেনে ওঠার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ রেলস্টেশন থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া উত্তম। আশা করি, এই লেখাটি আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ ও সঠিক করতে সহায়তা করবে।

Table of Contents

একতা এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচিতি ও গুরুত্ব

একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর পরিষেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর পূর্ণাঙ্গ নাম ও নম্বর হলো দ্রুতযান এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭০৫/৭০৬) । যদিও সাধারণ যাত্রীদের কাছে এটি একতা এক্সপ্রেস নামেই বেশি পরিচিত। ট্রেনটি পঞ্চগড় জেলার সাথে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। পঞ্চগড় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শেষ সীমান্তবর্তী জেলা। সেখান থেকে রাজধানী পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে ট্রেনটির সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা।

ট্রেনটির চলাচলের রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  পঞ্চগড় থেকে শুরু করে দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর হয়ে ঢাকা—এই পথে অসংখ্য শহর, বাণিজ্যিক কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা অবস্থিত। ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই ট্রেনে ভ্রমণ করেন। ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনের জন্যও এই ট্রেনের ওপর নির্ভর করেন।

কতা এক্সপ্রেসের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর আরামদায়ক আসন ব্যবস্থা। দীর্ঘ পথের যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, এসি চেয়ার ও এসি স্লিপার—এই তিন ধরনের আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শোভন চেয়ার সাধারণ যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক। এসি চেয়ার দিনের বেলায় ভ্রমণকারীদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ নিশ্চিত করে। আর এসি স্লিপার রাতের যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক, কারণ এখানে শুয়ে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে।

ট্রেনটির সময়সূচী এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে ঢাকা থেকে ছেড়ে পঞ্চগড় পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়, আবার পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাতে সকাল হয়ে যায়। ফলে যাত্রীরা রাতের ঘুমিয়ে কাটিয়ে সকালে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এটি দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।

এছাড়া ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি নেই বলে সপ্তাহের সাত দিনই যাত্রীরা এই ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পান। ছুটির মৌসুমে, বিশেষ করে ঈদ, পূজা ও শীতকালীন ছুটিতে ট্রেনটিতে যাত্রীর চাপ অনেক বেড়ে যায়। সে সময় আগাম টিকিট সংগ্রহ করা জরুরি হয়ে পড়ে।

একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

ট্রেনযাত্রার ক্ষেত্রে সময়সূচী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। নিচে ২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী একতা এক্সপ্রেসের বিস্তারিত সময়সূচী টেবিল আকারে দেওয়া হলো। সময়সূচী যাত্রীদের সুবিধার্থে দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ যে কোনো প্রয়োজনে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে। তাই যাত্রার আগে অফিসিয়াল সূত্র যাচাই করে নেওয়া ভালো।

এই পোস্টটি পড়ুনঃ জামালপুর টু ময়মনসিংহ ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা ২০২৬ 

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় রুট (ট্রেন নং ৭০৫)

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ট্রেনটি সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় এবং রাতে পঞ্চগড় পৌঁছায়। নিচের টেবিলে স্টেশন অনুযায়ী আগমন ও প্রস্থানের বিস্তারিত সময় দেওয়া হলো:

ক্রম স্টেশনের নাম আগমনের সময় প্রস্থানের সময় বিরতির সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
 ১ কমলাপুর (ঢাকা) সকাল ১০:১৫ শুরু প্রধান স্টেশন, টিকিট সংগ্রহ ও যাত্রা শুরু
 ২ ঢাকা বিমানবন্দর সকাল ১০:৩৮ সকাল ১০:৪৩ ৫ মিনিট বিমানযাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক
 ৩ জয়দেবপুর সকাল ১১:০০ সকাল ১১:০৯ ৯ মিনিট গাজীপুর জেলার প্রধান স্টেশন
 ৪ টাঙ্গাইল দুপুর ১২:০৩ দুপুর ১২:০৫ ২ মিনিট টাঙ্গাইল জেলার প্রধান স্টেশন
 ৫ ইব্রাহিমাবাদ দুপুর ১২:২৫ দুপুর ১২:২৭ ২ মিনিট স্থানীয় যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
 ৬ এম মনসুর আলী দুপুর ১২:৪৩ দুপুর ১২:৪৫ ২ মিনিট নামকরণ বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে
 ৭ উল্লাপাড়া দুপুর ০১:০১ দুপুর ০১:০৪ ৩ মিনিট সিরাজগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন
 ৮ ঈশ্বরদী বাইপাস দুপুর ০২:০৯ দুপুর ০২:১১ ২ মিনিট পাবনা জেলার প্রধান জংশন
 ৯ পঞ্চগড় রাত ০৯:০০ শেষ গন্তব্য স্টেশন

মোট ভ্রমণ সময়: প্রায় ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট
মোট অতিক্রান্ত দূরত্ব: প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার
বিরতির মোট স্টেশন: ১৭টি (উপরে প্রধান স্টেশনগুলো দেখানো হয়েছে)
যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সময়: সকালের যাত্রা, দিনের বেলা টাঙ্গাইল, উল্লাপাড়া হয়ে বিকেলে ঈশ্বরদী ও রাতে পঞ্চগড়।

পঞ্চগড় থেকে ঢাকা রুট (ট্রেন নং ৭০৬)

পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী ট্রেনটি রাতে পঞ্চগড় স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় এবং সকালে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায়। নিচের টেবিলে এই রুটের বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো:

ক্রম স্টেশনের নাম আগমনের সময় প্রস্থানের সময় বিরতির সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পঞ্চগড় রাত ০৯:১০ শুরু যাত্রার শুরু, সীমান্তবর্তী জেলা
দিনাজপুর রাত ১১:০৫ রাত ১১:১৩ ৮ মিনিট দিনাজপুর জেলার প্রধান স্টেশন, দীর্ঘ বিরতি
সান্তাহার জংশন রাত ০১:৫৫ রাত ০২:০০ ৫ মিনিট গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন
নাটোর রাত ০২:৪১ রাত ০২:৪৪ ৩ মিনিট নাটোর জেলার প্রধান স্টেশন
উল্লাপাড়া ভোর ০৪:১২ ভোর ০৪:১৫ ৩ মিনিট সিরাজগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন
টাঙ্গাইল ভোর ০৫:১২ ভোর ০৫:১৪ ২ মিনিট টাঙ্গাইল জেলার প্রধান স্টেশন
জয়দেবপুর সকাল ০৬:১৪ সকাল ০৬:২১ ৭ মিনিট গাজীপুর জেলার প্রধান স্টেশন, দীর্ঘ বিরতি
কমলাপুর (ঢাকা) সকাল ০৭:২০ শেষ গন্তব্য স্টেশন, রাজধানীতে প্রবেশ

 

মোট ভ্রমণ সময়: প্রায় ১০ ঘণ্টা ১০ মিনিট
মোট অতিক্রান্ত দূরত্ব: প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার
বিরতির মোট স্টেশন: ১৭টি (উপরে প্রধান স্টেশনগুলো দেখানো হয়েছে)
যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সময়: রাতের যাত্রা, ভোরে টাঙ্গাইল ও জয়দেবপুর হয়ে সকালে ঢাকা।

সময়সূচী সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ টিপস

ট্রেনের সময়সূচী জানার পাশাপাশি কিছু বিষয় মাথায় রাখলে ভ্রমণ আরও আরামদায়ক হয়। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো:

১. স্টেশনে আগে পৌঁছানো: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়া ভালো। বিশেষ করে কমলাপুর ও পঞ্চগড় স্টেশনে যাত্রীর চাপ বেশি থাকে।

২. ঘন কুয়াশার প্রভাব: শীতকালে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) ঘন কুয়াশার কারণে ট্রেন ৩০-৬০ মিনিট বিলম্বিত হতে পারে। এই সময়ে ভ্রমণ করলে সময়ের সাথে সামান্য নমনীয়তা রাখা উচিত।

৩. ছুটির মৌসুমে ভিড়: ঈদ, পূজা, শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ট্রেনের যাত্রীচাপ অনেক বেড়ে যায়। এ সময় স্টেশনগুলিতে বিরতির সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

৪. টিকিট সংরক্ষণ: ছুটির মৌসুমে ট্রেনের টিকিট পেতে আগে থেকেই অনলাইনে টিকিট সংরক্ষণ করা জরুরি। টিকিট খোলার ৭ দিন আগ থেকে সংরক্ষণ করা যায়।

৫. রাতের যাত্রার প্রস্তুতি: পঞ্চগড় থেকে ঢাকা রুটে রাতের যাত্রায় শীতের সময় গরম কাপড় সাথে রাখা ভালো। এসি শ্রেণিতে ভ্রমণ করলেও শীতের রাতে ঠান্ডা লাগতে পারে।

একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬

ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণে আসন শ্রেণি, ভ্রমণ দূরত্ব ও যাত্রীর ধরন (প্রাপ্তবয়স্ক/শিশু) বিবেচনা করা হয়। নিচে ২০২৬ সালের জন্য প্রযোজ্য ভাড়ার বিস্তারিত তালিকা টেবিল আকারে দেওয়া হলো। সব ভাড়ার সাথে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত রয়েছে।

আসনভিত্তিক ভাড়ার তালিকা

আসন শ্রেণি ভাড়া (ভ্যাটসহ) কোড যাত্রীদের জন্য সুবিধা কার জন্য উপযুক্ত
শোভন চেয়ার ৭৬০ টাকা এসএন সাধারণ আসন, অর্থনৈতিক দাম, দীর্ঘ দূরত্বের জন্য উপযোগী দৈনন্দিন যাত্রী, শিক্ষার্থী, স্বল্প বাজেটের যাত্রী
এসি চেয়ার ১,৪২০ টাকা এসি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, নরম আসন, দিনের যাত্রার জন্য আরামদায়ক ব্যবসায়ী, চিকিৎসা সেবাগ্রহীতা, প্রবীণ যাত্রী
এসি স্লিপার ১,৭০০ টাকা এসএল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, শোয়ার ব্যবস্থা, রাতের যাত্রার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক দীর্ঘ পথের যাত্রী, পরিবার, রাতের যাত্রী

 

শিশু ও বিশেষ যাত্রীদের জন্য ভাড়া নীতি

যাত্রীর ধরন ভাড়ার হার শর্তাবলি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বছরের নিচে শিশু সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পৃথক আসন পাওয়া যাবে না জন্ম নিবন্ধন বা বয়সের প্রমাণ
থেকে ১০ বছর শিশু প্রাপ্তবয়স্ক ভাড়ার ৫০% পৃথক আসন প্রদান করা হয় জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড
১০ বছরের বেশি সম্পূর্ণ ভাড়া প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য
প্রবীণ নাগরিক (৬৫+) ১৫% ছাড় জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র
প্রতিবন্ধী যাত্রী ২৫% ছাড় প্রতিবন্ধীতা সনদ দেখাতে হবে প্রতিবন্ধীতা সনদ

 

ভাড়া সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য

টিকিট বাতিল নীতি:

  • ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে ৯০% টাকা ফেরত পাওয়া যায়।

  • ট্রেন ছাড়ার ১২ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে ৭৫% টাকা ফেরত পাওয়া যায়।

  • ট্রেন ছাড়ার ৬ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে ৫০% টাকা ফেরত পাওয়া যায়।

ট্রেন ছাড়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করলে কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।

অনলাইন টিকিটের অতিরিক্ত চার্জ:

  • বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টিকিট কাটলে পেমেন্ট গেটওয়ে চার্জ ১০-২০ টাকা অতিরিক্ত লাগতে পারে।

  • ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে কিছু ব্যাংকের নিজস্ব চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

আসন পরিবর্তন:

  • ট্রেনে ওঠার পর একই শ্রেণির অন্য কোনো আসন খালি থাকলে আসন পরিবর্তন করা যায়। এতে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া লাগে না।
  • তবে শোভন চেয়ার থেকে এসি চেয়ারে পরিবর্তন করতে চাইলে ভাড়ার পার্থক্য দিতে হবে এবং এটি স্টেশন মাস্টারের অনুমতি সাপেক্ষে।

ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা:
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বছরের যেকোনো সময় প্রয়োজনে ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় বাজেট অধিবেশনে নতুন বাজেট ঘোষণার সময় ভাড়ায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তাই টিকিট কাটার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত সর্বশেষ ভাড়া যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

বর্তমানে ট্রেনের টিকিট কাটার সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায় হলো অনলাইন পদ্ধতি। বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে যাত্রীরা ঘরে বসেই টিকিট কাটতে পারছেন। নিচে ধাপে ধাপে টিকিট কাটার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা তুলে ধরা হলোঃ

অনলাইনে টিকিট কাটার ধাপ

১. প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd-এ ভিজিট করুন।

২. নতুন হলে উপরের ডান পাশে “রেজিস্ট্রেশন” অপশনে ক্লিক করে আপনার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ও একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। রেজিস্ট্রেশনের পর মোবাইলে একটি ওটিপি আসবে, তা দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করুন।

৩. রেজিস্ট্রেশন শেষে ইউজারনেম (মোবাইল নম্বর) ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

৪. লগইন করার পর হোমপেজে “টিকিট বুকিং” অপশনটি নির্বাচন করুন।

৫. এবার যাত্রার রুট নির্বাচন করুন। “থেকে” অপশনে ঢাকা (কমলাপুর) বা পঞ্চগড় সিলেক্ট করুন। “থেকে” অপশনে অপরটি নির্বাচন করুন।

৬. যাত্রার তারিখ নির্বাচন করুন। টিকিট সাধারণত যাত্রার ৭ দিন আগে থেকে খোলা হয়।

৭. ট্রেনের নাম নির্বাচন করুন। তালিকা থেকে একতা এক্সপ্রেস বা দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭০৫/৭০৬) সিলেক্ট করুন।

৮. আসন সংখ্যা ও যাত্রীর ধরন (প্রাপ্তবয়স্ক/শিশু) নির্বাচন করুন।

৯. আসন পছন্দের অপশন থেকে আপনার পছন্দের আসন শ্রেণি (শোভন চেয়ার/এসি চেয়ার/এসি স্লিপার) নির্বাচন করুন।

১০. আসনের মানচিত্র থেকে নির্দিষ্ট আসন নম্বর নির্বাচন করুন। যদি নির্দিষ্ট আসন পছন্দ না থাকে, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসন বরাদ্ধের অপশন নির্বাচন করতে পারেন।

১১. সব তথ্য যাচাই করে “পেমেন্ট” অপশনে ক্লিক করুন।

১২. পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে বিকাশ বা নগদ নির্বাচন করুন। আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।

১৩. পেমেন্ট সফল হলে টিকিটটি ডাউনলোড করে রাখুন অথবা মোবাইলে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন। টিকিটের পিডিএফ কপি আপনার রেজিস্টার্ড ইমেইলেও চলে যাবে।

স্টেশন থেকে টিকিট কাটার নিয়ম

অনলাইনে টিকিট কাটতে অসুবিধা হলে স্টেশন থেকে সরাসরি টিকিট কাটা যায়। এ জন্য স্টেশনের বুকিং কাউন্টারে গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে। তবে স্টেশন থেকে টিকিট কাটার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি:

  • ছুটির মৌসুমে স্টেশনে দীর্ঘ লাইন থাকে, তাই সময় নিয়ে যেতে হবে।

  • স্টেশন থেকে টিকিট কাটতে সাধারণত ২০-৩০ টাকা অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ লাগে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে এজেন্টের মাধ্যমে নিলে কমিশন দিতে হতে পারে।

  • স্টেশন থেকে কেনা টিকিট অনলাইনের মতো ডাউনলোড করা যায় না, হারিয়ে গেলে প্রতিস্থাপন করা কঠিন।

 

টিকিট সংক্রান্ত সতর্কতা

  • ছুটির মৌসুমে টিকিট পেতে যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট খোলার সাথে সাথে বুকিং দিতে হবে। অন্যথায় আসন পাওয়া কঠিন।

  • অনলাইনে টিকিট কাটার পর যে পিডিএফ বা এসএমএস আসে, তা ট্রেনে ওঠার সময় দেখাতে হবে। প্রিন্ট করে রাখা ভালো।

  • জাল টিকিট বা অন্যের নামে টিকিট ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। টিকিট যাচাইয়ের সময় নাম ও পরিচয়পত্র মিলতে হবে।

  • টিকিট বাতিল করতে চাইলে অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে “টিকিট বাতিল” অপশনে ক্লিক করে সহজেই বাতিল করা যায়।

একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইভ ট্র্যাকিং পদ্ধতি

বর্তমান যুগে প্রযুক্তির কল্যাণে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানা খুবই সহজ। একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইভ ট্র্যাকিংয়ের জন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়।

এসএমএস পদ্ধতি

১. মোবাইলের মেসেজ অপশনে যান।

২. নতুন মেসেজ টাইপ করুন: TR 705 (ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ট্রেনের জন্য) অথবা TR 706 (পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের জন্য)

৩. মেসেজটি পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে।

৪. কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফিরতি এসএমএস-এ ট্রেনের বর্তমান অবস্থান, সর্বশেষ অতিক্রান্ত স্টেশন, বর্তমান গতি ও আনুমানিক গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।

অনলাইন পদ্ধতি

বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা কিছু তৃতীয় পক্ষের অ্যাপসের মাধ্যমেও ট্রেনের লাইভ লোকেশন জানা যায়। তবে এসএমএস পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত।

লাইভ ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা

  • স্টেশনে কাউকে রিসিভ করতে গেলে ট্রেন কখন পৌঁছাবে তা আগে থেকেই জানা যায়।

  • ট্রেন বিলম্বিত হলে অতিরিক্ত অপেক্ষার ঝামেলা এড়ানো যায়।

  • দীর্ঘ রুটে ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা থাকলে মাঝপথে উঠতে চাইলে সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানো যায়।

যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় টিপস ও সতর্কতা

দীর্ঘ পথের ট্রেনযাত্রা আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো।

ট্রেনযাত্রার আগে

  • টিকিট আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখুন। শেষ মুহূর্তে টিকিট পাওয়া কঠিন।

  • যাত্রার সময়সূচী ভালোভাবে দেখে নিন এবং স্টেশনে কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পৌঁছান।

  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র, টিকিটের কপি) সাথে রাখুন।

  • শীতকালে ভ্রমণ করলে গরম কাপড় সাথে রাখুন। রাতের যাত্রায় এসি কোচে ঠান্ডা বেশি লাগতে পারে।

  • প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী সাথে রাখুন।

ট্রেনযাত্রার সময়

  • ট্রেনের ভেতরে নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখুন। মূল্যবান জিনিসপত্র সাবধানে রাখুন।

  • ট্রেনের নির্ধারিত স্টেশনে নামার কথা মনে রাখুন। ট্রেন সাধারণত প্রধান স্টেশনগুলোতে বেশি সময় দাঁড়ায় না।

  • ট্রেনের ভেতরে খাবার ও পানির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নিজের পছন্দের খাবার সাথে নিয়ে যেতে পারেন।

  • শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের বিশেষ যত্ন নিন। প্রয়োজনে স্টেশন মাস্টার বা ট্রেনের গার্ডের সাহায্য নিন।

জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ

  • ট্রেনের ভেতরে জরুরি প্রয়োজনে গার্ড বা টিটি (ট্রাভেলিং টিকিট চেকার) এর সাথে যোগাযোগ করুন।

  • বাংলাদেশ রেলওয়ের জাতীয় হেল্পলাইন নম্বর ১৩৩০২ এ যোগাযোগ করা যায়।

  • অনলাইন টিকিট সংক্রান্ত সমস্যায় ই-টিকেটিং হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করুন।

উপসংহার

ট্রেন ভ্রমণ বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি এক ধরনের অভিজ্ঞতা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় জানালার বাইরের গ্রামীণ দৃশ্য, ফসলের মাঠ, নদী, সবুজের সমারোহ—এসব যাত্রাকে করে তোলে স্মরণীয়। আর এই যাত্রাকে স্মরণীয় করতে হলে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। আর সঠিক পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো সময়সূচী ও ভাড়ার সঠিক তথ্য।

একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উত্তরবঙ্গের মানুষদের জন্য একটি আশীর্বাদ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই ট্রেনে চড়ে কর্মস্থলে যান, পরিবারের কাছে ফিরে যান, নতুন স্বপ্ন নিয়ে রাজধানীমুখী হন। ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে যান, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য যান, রোগীরা চিকিৎসার জন্য যান—এই ট্রেন তাদের সকলের সঙ্গী। দীর্ঘ রুট অতিক্রম করা সত্ত্বেও ট্রেনটির সময়ানুবর্তিতা ও আরামদায়ক আসন ব্যবস্থা একে যাত্রীদের কাছে অনন্য করে তুলেছে।

এই লেখায় আমি একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের ২০২৬ সালের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, টিকিট কাটার নিয়ম, লাইভ ট্র্যাকিং পদ্ধতি ও যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। টেবিল আকারে সময়সূচী ও ভাড়া উপস্থাপন করেছি, যাতে যাত্রীরা সহজেই বুঝতে পারেন। আশা করি, এই লেখাটি আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ ও সঠিক করতে সহায়তা করবে।

তবে একটি কথা মনে রাখা জরুরি—রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে সময়সূচী ও ভাড়ায় সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘন কুয়াশা, রেললাইনের মেরামত বা অন্য কোনো প্রয়োজনে সময়সূচী সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সরাসরি ট্রেনে ওঠার আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ রেলস্টেশন থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া উত্তম।

সবশেষে, যাত্রীদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ—ট্রেনে ভ্রমণের সময় সময়ানুবর্তিতা মেনে চলুন, টিকিট যাচাইয়ে সহযোগিতা করুন, ট্রেনের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও আসবাবপত্র সংরক্ষণে সচেষ্ট থাকুন। ট্রেন যেমন যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়, তেমনি যাত্রীরাও ট্রেনকে ভালো রাখতে পারেন সচেতন আচরণের মাধ্যমে। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও আরামদায়ক ট্রেনযাত্রা হোক সবার—এই প্রত্যাশা রইল।

 

 

 

(FAQ) – জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

একতা এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়ে যাত্রীদের মনে প্রায়ই অনেক প্রশ্ন থাকে। নিচে সেই সাধারণ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হলো। আশা করি, এগুলো আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনাকে আরও সহজ করবে।

১. একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঠিক নাম কী?

উত্তর: একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঠিক নাম হলো দ্রুতযান এক্সপ্রেস। এর ট্রেন নম্বর ৭০৫ (ঢাকা থেকে পঞ্চগড়) এবং ৭০৬ (পঞ্চগড় থেকে ঢাকা)। তবে সাধারণ যাত্রীদের কাছে এটি একতা এক্সপ্রেস নামেই বেশি পরিচিত।

২. একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি আছে কি?

উত্তর: না, একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। এটি সপ্তাহের সাত দিনই নিয়মিতভাবে ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে চলাচল করে। ছুটির দিনগুলোতেও এই ট্রেন চলাচল করে, যা যাত্রীদের জন্য খুবই সুবিধাজনক।

৩. একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কখন খোলা হয়?

উত্তর: একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট সাধারণত যাত্রার ৭ দিন আগে থেকে অনলাইনে খোলা হয়। প্রতিদিন সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ছুটির মৌসুমে টিকিট পেতে সকাল ৮টার সময়ই বুকিং দেওয়া ভালো, কারণ আসন দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

৪. অনলাইনে টিকিট কাটতে কোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে?

উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd ব্যবহার করে অনলাইনে টিকিট কাটা যায়। এছাড়া কিছু তৃতীয় পক্ষের অ্যাপসও রয়েছে, তবে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য।

৫. একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে কোন কোন আসন শ্রেণি রয়েছে?

উত্তর: একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে মোট তিনটি আসন শ্রেণি রয়েছে:

  • শোভন চেয়ার (সাধারণ আসন)

  • এসি চেয়ার (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নরম আসন)

  • এসি স্লিপার (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শোয়ার আসন)

প্রতিটি শ্রেণির ভাড়া ভিন্ন হয়ে থাকে।

৬. শিশু যাত্রীদের জন্য ভাড়ার নিয়ম কী?

উত্তর:

  • ৫ বছরের নিচে শিশু: সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, তবে পৃথক আসন পাওয়া যাবে না।

  • ৫ থেকে ১০ বছর শিশু: প্রাপ্তবয়স্ক ভাড়ার ৫০%, পৃথক আসন প্রদান করা হয়।

  • ১০ বছরের বেশি: সম্পূর্ণ ভাড়া প্রযোজ্য।

শিশুর বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড সাথে রাখতে হবে।

৭. প্রবীণ নাগরিকরা কি ছাড় পাবেন?

উত্তর: হ্যাঁ, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকরা টিকিটে ১৫% ছাড় পাবেন। ছাড় পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।

৮. টিকিট বাতিল করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকিট বাতিল করলে টাকা ফেরত পাওয়া যায়।

  • ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে ৯০% টাকা ফেরত।

  • ট্রেন ছাড়ার ১২ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে ৭৫% টাকা ফেরত।

  • ট্রেন ছাড়ার ৬ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে ৫০% টাকা ফেরত।

  • ট্রেন ছাড়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করলে কোনো টাকা ফেরত পাওয়া যায় না।

৯. একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইভ লোকেশন কীভাবে জানব?

উত্তর: ট্রেনের লাইভ লোকেশন জানার জন্য এসএমএস পদ্ধতি সবচেয়ে সহজ। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে TR 705 (ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী ট্রেনের জন্য) অথবা TR 706 (পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের জন্য) লিখে ১৬৩১৮ নম্বরে পাঠান। ফিরতি এসএমএস-এ ট্রেনের বর্তমান অবস্থান, সর্বশেষ অতিক্রান্ত স্টেশন ও আনুমানিক পৌঁছানোর সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও ট্রেনের অবস্থান জানা যায়।

১০. একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে খাবারের ব্যবস্থা আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। ট্রেনে প্যান্ট্রি কার রয়েছে, যেখান থেকে যাত্রীরা চা, কফি, নাস্তা ও প্রধান খাবার কিনে খেতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ানোর সময় প্ল্যাটফর্মে স্থানীয় খাবারের দোকান থেকে খাবার কেনার সুযোগ থাকে। তবে দীর্ঘ যাত্রার জন্য নিজের পছন্দের শুকনো খাবার সাথে নিয়ে যাওয়া ভালো।

১১. একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে লাগেজ নেওয়ার সীমা কত?

উত্তর: সাধারণত একজন যাত্রী ২৫ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বিনা মূল্যে বহন করতে পারেন। শোভন চেয়ার শ্রেণিতে ২৫ কেজি এবং এসি শ্রেণিতে ৩০ কেজি পর্যন্ত লাগেজ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর বেশি লাগেজ নিলে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হতে পারে। মূল্যবান জিনিসপত্র ও নগদ টাকা সবসময় নিজের কাছে রাখা উচিত।

১২. ট্রেন ছাড়ার কতক্ষণ আগে স্টেশনে পৌঁছানো উচিত?

উত্তর: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো ভালো। কমলাপুর ও পঞ্চগড় স্টেশনে যাত্রীর চাপ বেশি থাকে, তাই সময়মতো পৌঁছানো জরুরি। এছাড়া টিকিট যাচাই, লাগেজ চেকিং ও আসন খোঁজার জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা দরকার। ছুটির মৌসুমে এই সময় আরও বাড়িয়ে ১ ঘণ্টা আগে পৌঁছানো নিরাপদ।

১৩. একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাপথে কোন কোন জেলা পড়ে?

উত্তর: একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যাওয়ার পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়—এই জেলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে বিরতি দেয়। মোট ১৭টি স্টেশনে ট্রেনটি থামে, যার মধ্যে প্রধান স্টেশনগুলো হলো কমলাপুর, জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল, উল্লাপাড়া, ঈশ্বরদী, সান্তাহার, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়।

১৪. নারীরা কি একা একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন?

উত্তর: হ্যাঁ, একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে নারী যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। ট্রেনের কয়েকটি কোচ শুধুমাত্র নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া ট্রেনে টিটি (ট্রাভেলিং টিকিট চেকার) ও রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা নিয়মিত টহল দেন। রাতের যাত্রায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে নিশ্চিত করা হয়। তবুও প্রয়োজনে সহযাত্রী বা ট্রেনের কর্মকর্তাদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

১৫. ছুটির মৌসুমে টিকিট না পেলে কী করব?

উত্তর: ছুটির মৌসুমে (ঈদ, পূজা, শীতকালীন ছুটি) টিকিট পেতে যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট খোলার সাথে সাথেই বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন। অনলাইনে টিকিট না পেলে স্টেশনের বুকিং কাউন্টার থেকে টিকিটের চেষ্টা করতে পারেন। এছাড়া রেলওয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ছুটির সময় অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়, সেসব কোচের টিকিট প্রায়ই পরে খোলা হয়। অনলাইনে নিয়মিত চেক করতে থাকুন।

১৬. একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি স্লিপার কোচ কেমন?

উত্তর: একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি স্লিপার কোচ অত্যন্ত আরামদায়ক। এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শোয়ার জন্য নরম বার্থের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি বার্থে আলাদা লাইট, পড়ার সুবিধা ও লাগেজ রাখার জায়গা রয়েছে। রাতের যাত্রার জন্য এটি সবচেয়ে উপযুক্ত শ্রেণি। এছাড়া এসি স্লিপার কোচে টয়লেট ও ওয়াশিং সুবিধাও অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে।

১৭. ট্রেনের টিকিটের পিডিএফ হারিয়ে গেলে কী করব?

উত্তর: টিকিটের পিডিএফ হারিয়ে গেলে চিন্তার কিছু নেই। আপনি যেই মোবাইল নম্বর বা ইমেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, সেখানে টিকিটের কপি চলে যায়। ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটে লগইন করে “মাই বুকিং” অপশন থেকে টিকিটটি আবার ডাউনলোড করতে পারেন। এছাড়া ট্রেনে ওঠার সময় আপনার মোবাইল নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েও টিকিটের তথ্য টিটি যাচাই করতে পারেন।

প্রয়োজনীয় তথ্য সংক্ষেপে:

বিষয় বিবরণ
ট্রেনের নাম একতা এক্সপ্রেস (দ্রুতযান এক্সপ্রেস)
ট্রেন নম্বর ৭০৫ (ঢাকা→পঞ্চগড়) ও ৭০৬ (পঞ্চগড়→ঢাকা)
সাপ্তাহিক ছুটি নেই (সপ্তাহের ৭ দিন চলাচল করে)
শোভন চেয়ার ভাড়া ৭৬০ টাকা
এসি চেয়ার ভাড়া ১,৪২০ টাকা
এসি স্লিপার ভাড়া ১,৭০০ টাকা
টিকিট কাটার মাধ্যম অনলাইন (eticket.railway.gov.bd) ও স্টেশন কাউন্টার
লাইভ ট্র্যাকিং TR 705/706 লিখে ১৬৩১৮-এ এসএমএস
হেল্পলাইন নম্বর ১৩৩০২

 

 

 

১৬৩১৮ eticket.railway.gov.bd TR 705 TR 706 আন্তঃনগর ট্রেনের ভাড়া আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী ঈদ যাত্রায় ট্রেন ঈদে ট্রেনের টিকিট উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা ট্রেন উল্লাপাড়া থেকে ঢাকা ট্রেন একতা এক্সপ্রেস একতা এক্সপ্রেস ২০২৬ একতা এক্সপ্রেস অনলাইন টিকিট একতা এক্সপ্রেস আসন ভাড়া একতা এক্সপ্রেস ঈদ স্পেশাল একতা এক্সপ্রেস এখন কোথায় একতা এক্সপ্রেস এসি চেয়ার ভাড়া একতা এক্সপ্রেস এসি স্লিপার ভাড়া একতা এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে একতা এক্সপ্রেস কখন পৌঁছায় একতা এক্সপ্রেস ছুটি একতা এক্সপ্রেস টিকিট একতা এক্সপ্রেস টিকিট কাটার নিয়ম একতা এক্সপ্রেস টিকিট চেক একতা এক্সপ্রেস টিকিট বুকিং একতা এক্সপ্রেস টিকেটের দাম একতা এক্সপ্রেস ট্রেন একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময় একতা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে পঞ্চগড় একতা এক্সপ্রেস দ্রুতযান একতা এক্সপ্রেস পঞ্চগড় থেকে ঢাকা একতা এক্সপ্রেস ভাড়া একতা এক্সপ্রেস ভাড়া ২০২৬ একতা এক্সপ্রেস যাত্রাবিরতি একতা এক্সপ্রেস লাইভ লোকেশন একতা এক্সপ্রেস শোভন চেয়ার ভাড়া একতা এক্সপ্রেস সময়সূচী একতা এক্সপ্রেস স্টেশন তালিকা একতা এক্সপ্রেস স্টেশন বিরতি গাজীপুরের ট্রেন ছুটির মৌসুমে ট্রেন জয়দেবপুর থেকে পঞ্চগড় ট্রেন টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা ট্রেন টাঙ্গাইলের ট্রেন ট্রেন ভ্রমণ গাইড ট্রেনের টিকিট অনলাইন ট্রেনের টিকিট কাটার উপায় ট্রেনের বর্তমান অবস্থান ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬ ট্রেনের লাইভ ট্র্যাকিং ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ ঢাকা কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ ট্রেন ঢাকা থেকে পঞ্চগড় ট্রেন ঢাকা থেকে পঞ্চগড় ট্রেনের সময় ঢাকা পঞ্চগড় রুটের ট্রেন দিনাজপুর থেকে ঢাকা ট্রেন দিনাজপুরের ট্রেন দ্রুতযান এক্সপ্রেস ছুটির দিন দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন নাটোরের ট্রেন পঞ্চগড় জেলার ট্রেন পঞ্চগড় থেকে ঢাকা ট্রেন পঞ্চগড় থেকে ঢাকা ট্রেনের সময় পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকিট বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন সিরাজগঞ্জের ট্রেন

Leave a Comment