সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ – খুলনা টু চিলাহাটি
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খুলনা থেকে উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী শহর চিলাহাটির সেতুবন্ধন রচনায় অনন্য ভূমিকা রাখছে সীমান্ত এক্সপ্রেস। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই আন্তঃনগর ট্রেনটি ১৯৮৮ সালের ১৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে এবং দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে যাত্রীদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে পরিচিত ।
খুলনা থেকে চিলাহাটির রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৪৪৬ কিলোমিটার । সীমান্ত এক্সপ্রেস এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে সময় নেয় প্রায় ৯ থেকে সাড়ে ৯ ঘণ্টা । এটি রাত্রিকালীন ট্রেন হওয়ায় ‘নাইট কিং’ ছদ্মনামেও পরিচিত ।
সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এটি দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে । যাত্রাপথে এটি মোট ২১টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়, যা মধ্যবর্তী অঞ্চলের যাত্রীদের জন্যও অত্যন্ত সুবিধাজনক । ট্রেনটিতে যাত্রীদের জন্য রয়েছে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট ও এসি বার্থ—সব ধরনের আসন সুবিধা ।
বর্তমানে ট্রেনটি ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা লাল-সবুজ পিটি ইনকা (২০১৬) কোচ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে । এই আধুনিক কোচ যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করে। ট্রেনটিতে খাবারের ব্যবস্থা, আসন বিন্যাস ও ঘুমানোর ব্যবস্থা রয়েছে ।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—সীমান্ত এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। প্রতি সোমবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন । সোমবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিনই এটি নিয়মিত সেবা দিয়ে থাকে।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানবো সীমান্ত এক্সপ্রেসের সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, ২০২৬ সালের ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম এবং যাত্রার আগে করণীয় বিষয়গুলো। নিচের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।
সীমান্ত এক্সপ্রেসের বিস্তারিত সময়সূচী ও ভাড়া
১. ট্রেন সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | সীমান্ত এক্সপ্রেস (Simanto Express) |
| ট্রেন নম্বর (খুলনা→চিলাহাটি) | ৭৪৭ |
| ট্রেন নম্বর (চিলাহাটি→খুলনা) | ৭৪৮ |
| রুট | খুলনা ↔ চিলাহাটি |
| মোট দূরত্ব | প্রায় ৪৪৬ কিলোমিটার |
| মোট ভ্রমণ সময় | প্রায় ৯ – ৯.৫ ঘণ্টা |
| ট্রেনের ধরন | আন্তঃনগর (রাত্রিকালীন) |
| সর্বপ্রথম চালু | ১৪ এপ্রিল ১৯৮৮ |
| সাপ্তাহিক ছুটির দিন | সোমবার |
| মোট স্টেশন | ২১টি |
| ব্যবহৃত লাইন | চিলাহাটি-পার্বতীপুর-সান্তাহার-দর্শনা লাইন |
| বর্তমান কোচ | লাল-সবুজ পিটি ইনকা (২০১৬) |
২. খুলনা থেকে চিলাহাটি – সময়সূচী ও স্টেশন তালিকা (ট্রেন নং ৭৪৭)
সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭) খুলনা জংশন থেকে রাত ৯:১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং পরদিন সকাল ৬:৪৫ মিনিটে চিলাহাটি জংশনে পৌঁছায় । ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন সোমবার ।
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (খুলনা→চিলাহাটি)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ১ | খুলনা জংশন | – | রাত ০৯:১৫ |
| ২ | দৌলতপুর | রাত ০৯:২৭ | রাত ০৯:২৭ |
| ৩ | নওয়াপাড়া | রাত ০৯:৫২ | রাত ০৯:৫২ |
| ৪ | যশোর | রাত ১০:২৩ | রাত ১০:২৩ |
| ৫ | মোবারকগঞ্জ | রাত ১০:৫৪ | রাত ১০:৫৪ |
| ৬ | কোটচাঁদপুর | রাত ১১:০৮ | রাত ১১:০৮ |
| ৭ | দর্শনা হল্ট | রাত ১১:৩৫ | রাত ১১:৩৫ |
| ৮ | চুয়াডাঙ্গা | রাত ১১:৫৭ | রাত ১১:৫৭ |
| ৯ | আলমডাঙ্গা | রাত ১২:১৬ | রাত ১২:১৬ |
| ১০ | পোড়াদহ | রাত ১২:৩৪ | রাত ১২:৩৪ |
| ১১ | ভেড়ামারা | রাত ১২:৫৪ | রাত ১২:৫৪ |
| ১২ | ঈশ্বরদী | রাত ০১:২০ | রাত ০১:২০ |
| ১৩ | নাটোর | রাত ০২:০৭ | রাত ০২:০৭ |
| ১৪ | সান্তাহার | ভোর ০৩:০৫ | ভোর ০৩:০৫ |
| ১৫ | আক্কেলপুর | ভোর ০৩:৩০ | ভোর ০৩:৩০ |
| ১৬ | জয়পুরহাট | ভোর ০৩:৪৬ | ভোর ০৩:৪৬ |
| ১৭ | বিরামপুর | ভোর ০৪:১৭ | ভোর ০৪:১৭ |
| ১৮ | ফুলবাড়ি | ভোর ০৪:৩০ | ভোর ০৪:৩০ |
| ১৯ | পার্বতীপুর | ভোর ০৪:৫০ | ভোর ০৪:৫০ |
| ২০ | সৈয়দপুর | সকাল ০৫:১৭ | সকাল ০৫:১৭ |
| ২১ | নীলফামারী | সকাল ০৫:৪১ | সকাল ০৫:৪১ |
| ২২ | ডোমার | সকাল ০৬:০১ | সকাল ০৬:০১ |
| ২৩ | চিলাহাটি জংশন | সকাল ০৬:৪৫ | – |
বিঃদ্রঃ: ট্রেনটি প্রতিটি স্টেশনে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য থামে (সাধারণত ১-২ মিনিট) ।
৩. চিলাহাটি থেকে খুলনা – সময়সূচী ও স্টেশন তালিকা (ট্রেন নং ৭৪৮)
ফেরার পথে ট্রেনটি চিলাহাটি জংশন থেকে সন্ধ্যা ৬:৪৫/৬:৩০ মিনিটে ছাড়ে এবং পরদিন ভোর ৪:১০/৪:২০ মিনিটে খুলনা জংশনে পৌঁছায় । ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন সোমবার 。
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (চিলাহাটি→খুলনা)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ১ | চিলাহাটি জংশন | – | সন্ধ্যা ০৬:৪৫ |
| ২ | ডোমার | সন্ধ্যা ০৭:০৩ | সন্ধ্যা ০৭:০৩ |
| ৩ | নীলফামারী | সন্ধ্যা ০৭:২৫ | সন্ধ্যা ০৭:২৫ |
| ৪ | সৈয়দপুর | সন্ধ্যা ০৭:৪৪ | সন্ধ্যা ০৭:৪৪ |
| ৫ | পার্বতীপুর | সন্ধ্যা ০৮:০৫ | সন্ধ্যা ০৮:০৫ |
| ৬ | ফুলবাড়ি | রাত ০৮:৪৬ | রাত ০৮:৪৬ |
| ৭ | বিরামপুর | রাত ০৮:৫৮ | রাত ০৮:৫৮ |
| ৮ | জয়পুরহাট | রাত ০৯:৩১ | রাত ০৯:৩১ |
| ৯ | আক্কেলপুর | রাত ০৯:৪৭ | রাত ০৯:৪৭ |
| ১০ | সান্তাহার | রাত ১০:১৪ | রাত ১০:১৪ |
| ১১ | নাটোর | রাত ১০:৫৫ | রাত ১০:৫৫ |
| ১২ | ঈশ্বরদী | রাত ১১:৩৭ | রাত ১১:৩৭ |
| ১৩ | ভেড়ামারা | রাত ১২:১৫ | রাত ১২:১৫ |
| ১৪ | পোড়াদহ | রাত ১২:৩৬ | রাত ১২:৩৬ |
| ১৫ | আলমডাঙ্গা | রাত ০১:০৫ | রাত ০১:০৫ |
| ১৬ | চুয়াডাঙ্গা | রাত ০১:২৫ | রাত ০১:২৫ |
| ১৭ | দর্শনা হল্ট | রাত ০১:৪৮ | রাত ০১:৪৮ |
| ১৮ | কোটচাঁদপুর | রাত ০২:১৩ | রাত ০২:১৩ |
| ১৯ | মোবারকগঞ্জ | রাত ০২:২৭ | রাত ০২:২৭ |
| ২০ | যশোর | রাত ০২:৫৮ | রাত ০২:৫৮ |
| ২১ | নওয়াপাড়া | ভোর ০৩:২৯ | ভোর ০৩:২৯ |
| ২২ | দৌলতপুর | ভোর ০৩:৫৪ | ভোর ০৩:৫৪ |
| ২৩ | খুলনা জংশন | ভোর ০৪:১০ | – |
৪. সীমান্ত এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি
সীমান্ত এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে । এর মানে হলো:
-
সোমবার খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী ট্রেন (৭৪৭) চলাচল করে না
-
সোমবার চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী ট্রেন (৭৪৮) চলাচল করে না
সতর্কতা: আপনি যদি সোমবার যাত্রা করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে সীমান্ত এক্সপ্রেস পাবেন না। বিকল্প হিসেবে রূপসা এক্সপ্রেস (বৃহস্পতিবার বন্ধ) বা খুলনা মেইল (সারাবছর সচল) বেছে নিতে পারেন ।
৫. কেন সপ্তাহিক ছুটি রাখা হয়েছে?
বাংলাদেশ রেলওয়ে নিম্নলিখিত কারণে ট্রেনগুলোর সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারণ করে থাকে :
| কারণ | বিবরণ |
|---|---|
| রক্ষণাবেক্ষণ | প্রতিটি ট্রেনের নির্দিষ্ট সময় পর যান্ত্রিক পরিদর্শন ও মেরামত প্রয়োজন |
| সেবার মানোন্নয়ন | পরিষেবার মান বজায় রাখতে ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে |
| সুবিধাজনক সময় নির্বাচন | সোমবার সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিন নয়, তাই অফিসগামী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য খুব বেশি অসুবিধা হয় না |
৬. সীমান্ত এক্সপ্রেসের টিকিটের ভাড়া ২০২৬
সীমান্ত এক্সপ্রেসের টিকিটের মূল্য আসন বিভাগ ও যাত্রাপথের দূরত্ব অনুযায়ী নির্ধারিত। নিচে একাধিক সূত্রের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো ।
ক. খুলনা টু চিলাহাটি (পুরো পথ) – ভাড়া তালিকা
| আসনের বিভাগ | টিকিটের মূল্য (টাকায়) | বিঃদ্রঃ |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার | ১৭০ – ৫৭৫ টাকা | সূত্রভেদে ভিন্নতা |
| স্নিগ্ধা | ৯৬৬ – ১১০৪ টাকা | এসি চেয়ার |
| এসি সিট | ৫৬৪ – ২০২৮ টাকা | এসি সিট |
| এসি বার্থ | ৮২৩ টাকা | এসি শোয়ার সুবিধা |
⚠️ সতর্কতা: ভাড়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সূত্রে ব্যাপক তারতম্য দেখা যায়। টিকিট কাটার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সঠিক ভাড়া যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
খ. স্টেশনভিত্তিক ভাড়া তালিকা (খুলনা থেকে)
| গন্তব্য | শোভন চেয়ার | স্নিগ্ধা | এসি সিট |
|---|---|---|---|
| যশোর | ৭০ টাকা | ১৩৩ টাকা | ২৮৬ টাকা |
| কোটচাঁদপুর | ১২০ টাকা | ২২৫ টাকা | ৪৫৩ টাকা |
| চুয়াডাঙ্গা | ১৬৫ টাকা | ৩১৭ টাকা | ৬১৪ টাকা |
| পোড়াদহ | ২০৫ টাকা | ৩৮৬ টাকা | ৭৪৬ টাকা |
| ঈশ্বরদী | ২৯০ টাকা | ৫৫৮ টাকা | ১০৫১ টাকা |
| নাটোর | ৩৩৫ টাকা | ৬৩৯ টাকা | ১১৯৫ টাকা |
| সান্তাহার | ৩৮৫ টাকা | ৭৩৬ টাকা | ১৩৬৭ টাকা |
| জয়পুরহাট | ৪২৫ টাকা | ৮১১ টাকা | ১৫০৫ টাকা |
| সৈয়দপুর | ৫১৫ টাকা | ৯৮৪ টাকা | ১৮১৬ টাকা |
| নীলফামারী | ৫৪০ টাকা | ১০৩০ টাকা | ১৯০২ টাকা |
| ডোমার | ৫৫৫ টাকা | ১০৬৫ টাকা | ১৯৯৮ টাকা |
| চিলাহাটি | ৫৭৫ টাকা | ১১০৪ টাকা | ২০২৮ টাকা |
বিঃদ্রঃ: অনলাইনে টিকিট কাটলে প্রতি সিটের জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে ।
৭. সীমান্ত এক্সপ্রেসের আধুনিক কোচ ও সুবিধাসমূহ
সীমান্ত এক্সপ্রেস যাত্রীদের জন্য নানাবিধ সুবিধা নিশ্চিত করে :
| সুবিধা | বিবরণ |
|---|---|
| আধুনিক কোচ | ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা লাল-সবুজ পিটি ইনকা (২০১৬) কোচ |
| আসন বিন্যাস | আরামদায়ক হেলানো আসন |
| ঘুমানোর ব্যবস্থা | রাতের যাত্রায় এসি বার্থ ও প্রথম বার্থে শোয়ার সুবিধা |
| খাবার সুবিধা | ট্রেনে অনবোর্ড ক্যাটারিং সার্ভিস |
| বিনোদন সুবিধা | নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার অভিজ্ঞতা |
| মালপত্রের স্থান | পর্যাপ্ত লাগেজ রাখার জায়গা |
| ট্রেনের অবস্থান জানার ব্যবস্থা | WhatsApp ও এসএমএস-এর মাধ্যমে ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানার সুবিধা |
৮. সীমান্ত এক্সপ্রেসের ইতিহাস
সীমান্ত এক্সপ্রেস উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের সরাসরি সংযোগ স্থাপনকারী একটি ঐতিহাসিক ট্রেন ।
-
প্রথম চালু: ১৪ এপ্রিল ১৯৮৮
-
নামকরণের কারণ: খুলনা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ট্রেনটির নামকরণ ‘সীমান্ত’ এক্সপ্রেস রাখা হয়
-
স্বীকৃতি: এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম দিকের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন
পূর্বে ট্রেনটি ইন্দোনেশিয়ার তৈরি পুরাতন সাদা ইনকা কোচ নিয়ে চলাচল করত। বর্তমানে এটি লাল-সবুজ পিটি ইনকা (২০১৬) কোচ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে ।
৯. রূপসা এক্সপ্রেসের সাথে রেক ভাগাভাগি
সীমান্ত এক্সপ্রেস রূপসা এক্সপ্রেসের সাথে রেক ভাগাভাগি করে । এর মানে হলো:
-
সীমান্ত এক্সপ্রেস রাতের বেলা খুলনা-চিলাহাটি রুটে চলাচল করে
-
রূপসা এক্সপ্রেস দিনের বেলা একই রুটে চলাচল করে
উভয় প্রান্ত (খুলনা ও চিলাহাটি) থেকে ২টি রেক এই ট্রেন দুটির জন্য ব্যবহৃত হয় ।
সীমান্ত এক্সপ্রেস ভ্রমণ টিপস
-
টিকিট আগে বুকিং করুন: যাত্রার ৭-১০ দিন আগে থেকে অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়া যায়। সকাল ৮টায় টিকিট খোলা হয় 。
-
সঠিক দিন বেছে নিন: সোমবার যাত্রা করলে সীমান্ত এক্সপ্রেস পাবেন না। বিকল্প হিসেবে রূপসা এক্সপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন ।
-
সঠিক ভাড়া যাচাই করুন: ভাড়ার তালিকায় বিভিন্ন সূত্রের মধ্যে পার্থক্য আছে। টিকিট কাটার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভাড়া দেখে নিন।
-
স্টেশনে আগে পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যান।
-
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে রাখুন: দীর্ঘ পথের রাতের যাত্রায় হালকা চাদর বা গরম কাপড় ও খাবার পানি সাথে রাখা ভালো。 ট্রেনে ক্যাটারিং সুবিধা আছে ।
-
ট্রেনের অবস্থান জানতে চাইলে: ০১৯২৩-৬৩৮৭৭১ নম্বরে WhatsApp করুন অথবা TR লিখে ট্রেনের কোড ৭৪৭/৭৪৮ পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে ।
-
মধ্যবর্তী স্টেশনে নামলে সতর্ক থাকুন: ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে চলে, তাই আপনার স্টেশন আসার আগেই প্রস্তুত থাকুন।
উপসংহার
সীমান্ত এক্সপ্রেস খুলনা-চিলাহাটি রুটের একটি নির্ভরযোগ্য ও ঐতিহ্যবাহী আন্তঃনগর ট্রেন। ১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর একটি। ২০২৬ সালেও ট্রেনটি তার নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে সোমবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন চলাচল করছে।
সীমান্ত এক্সপ্রেসের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
✅ দক্ষিণ-উত্তরবঙ্গের সংযোগকারী: খুলনা ও চিলাহাটির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে
✅ রাতের যাত্রার জন্য উপযোগী: খুলনা থেকে রাত ০৯:১৫-এ ছেড়ে সকাল ০৬:৪৫-এ চিলাহাটি পৌঁছায়
✅ আধুনিক কোচ: ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা লাল-সবুজ পিটি ইনকা (২০১৬) কোচ
✅ আরামদায়ক যাত্রা: শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ—চার ধরনের আসন সুবিধা
✅ ঐতিহ্যবাহী ট্রেন: ১৯৮৮ সাল থেকে যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছে
✅ যাত্রী-বান্ধব সুবিধা: খাবার ব্যবস্থা, ঘুমানোর ব্যবস্থা, ট্রেনের অবস্থান জানার ব্যবস্থা
ট্রেনটির যাত্রাপথে ফুলবাড়ি, দিনাজপুর, নীলফামারীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো পড়ায়, এই এলাকার যাত্রীরাও সহজেই ট্রেনে উঠানামা করতে পারেন। বিশেষ করে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, নাটোর ও সান্তাহারের যাত্রীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যাত্রার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন—সোমবার সীমান্ত এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে । সোমবার ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে রূপসা এক্সপ্রেস বা খুলনা মেইল বেছে নিতে পারেন 。
টিকিট আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং দেওয়া ভালো। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করলে ঝামেলা কমে 。
২০২৬ সালে আপনার উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গ ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে সীমান্ত এক্সপ্রেস হতে পারে সেরা বাছাই। সঠিক সময়সূচী মেনে টিকিট কেটে নিন এবং নিশ্চিন্তে যাত্রা শুরু করুন। আপনার যাত্রা শুভ হোক!
Frequently Asked Questions (FAQ) – ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি কোথা থেকে কোথায় যায়?
উত্তর: সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি খুলনা জংশন থেকে চিলাহাটি জংশন পর্যন্ত চলাচল করে 。
প্রশ্ন ২: খুলনা থেকে সীমান্ত এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
উত্তর: সীমান্ত এক্সপ্রেস (৭৪৭) খুলনা থেকে রাত ০৯:১৫ মিনিটে ছাড়ে 。
প্রশ্ন ৩: সীমান্ত এক্সপ্রেস চিলাহাটি পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি চিলাহাটি পৌঁছায় পরদিন সকাল ০৬:৪৫ মিনিটে 。
প্রশ্ন ৪: সীমান্ত এক্সপ্রেস সপ্তাহের কোন দিন বন্ধ থাকে?
উত্তর: সীমান্ত এক্সপ্রেস সোমবার বন্ধ থাকে 。
প্রশ্ন ৫: চিলাহাটি থেকে সীমান্ত এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
উত্তর: চিলাহাটি থেকে ট্রেনটি (৭৪৮) ছাড়ে সন্ধ্যা ০৬:৪৫ মিনিটে 。
প্রশ্ন ৬: চিলাহাটি থেকে খুলনা পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি খুলনা পৌঁছায় পরদিন ভোর ০৪:১০ মিনিটে 。
প্রশ্ন ৭: সীমান্ত এক্সপ্রেসের টিকিটের দাম কত?
উত্তর: ভাড়া সূত্রভেদে ভিন্ন। শোভন চেয়ার ১৭০-৫৭৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৯৬৬-১১০৪ টাকা, এসি সিট ৫৬৪-২০২৮ টাকা। টিকিট কাটার সময় অফিসিয়াল সাইটে ভাড়া যাচাই করুন 。
প্রশ্ন ৮: ট্রেনটি কোন কোন স্টেশনে থামে?
উত্তর: যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, পোড়াদহ, ঈশ্বরদী, নাটোর, সান্তাহার, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, নীলফামারী, ডোমারসহ মোট ২১টি স্টেশনে থামে 。
প্রশ্ন ৯: সীমান্ত এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
উত্তর: খুলনা→চিলাহাটি ৭৪৭ এবং চিলাহাটি→খুলনা ৭৪৮ 。
প্রশ্ন ১০: সীমান্ত এক্সপ্রেস কবে থেকে চালু হয়েছে?
উত্তর: ১৯৮৮ সালের ১৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে 。
প্রশ্ন ১১: ট্রেনটিতে এসি বার্থ সুবিধা আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনটিতে এসি বার্থ, এসি সিট ও স্নিগ্ধা ক্লাসে এসি সুবিধা আছে 。
প্রশ্ন ১২: অনলাইনে টিকিট কাটা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায় 。
প্রশ্ন ১৩: ট্রেনের ভেতরে খাবার ব্যবস্থা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনটিতে ক্যাটারিং ও খাবার কেনার ব্যবস্থা আছে 。
প্রশ্ন ১৪: সীমান্ত এক্সপ্রেস সপ্তাহে কত দিন চলে?
উত্তর: সপ্তাহে ৬ দিন চলে (সোমবার বন্ধ) 。
প্রশ্ন ১৫: যশোর স্টেশনে ট্রেন কখন পৌঁছায়?
উত্তর: খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী ট্রেনটি যশোরে পৌঁছায় রাত ১০:২৩ মিনিটে 。
প্রশ্ন ১৬: চুয়াডাঙ্গা স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: রাত ১১:৫৭ মিনিটে চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছায় 。
প্রশ্ন ১৭: নাটোর স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: রাত ০২:০৭ মিনিটে নাটোরে পৌঁছায় ।
প্রশ্ন ১৮: সান্তাহার স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: ভোর ০৩:০৫ মিনিটে সান্তাহারে পৌঁছায় ।
প্রশ্ন ১৯: ট্রেনের মোট যাত্রা সময় কত ঘণ্টা?
উত্তর: প্রায় ৯ থেকে সাড়ে ৯ ঘণ্টা 。
প্রশ্ন ২০: ট্রেনটির বর্তমান কোচের রং কী?
উত্তর: লাল-সবুজ পিটি ইনকা (২০১৬) কোচ 。
প্রশ্ন ২১: ট্রেন চলাকালীন ট্রেনের অবস্থান জানার উপায় কী?
উত্তর: WhatsApp (০১৯২৩-৬৩৮৭৭১) অথবা ১৬৩১৮ নম্বরে TR লিখে ট্রেনের কোড ৭৪৭/৭৪৮ পাঠিয়ে জানতে পারেন 。
প্রশ্ন ২২: সোমবার খুলনা থেকে চিলাহাটি যেতে কোন ট্রেন ভালো?
উত্তর: সোমবার সীমান্ত এক্সপ্রেস বন্ধ থাকায় রূপসা এক্সপ্রেস (বৃহস্পতিবার বন্ধ) বা খুলনা মেইল ব্যবহার করতে পারেন 。
প্রশ্ন ২৩: ট্রেনের টিকিট কতদিন আগে বুকিং দেওয়া যায়?
উত্তর: যাত্রার ৭ থেকে ১০ দিন আগে থেকে অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়া যায় 。
প্রশ্ন ২৪: এসি বার্থের টিকিট কত টাকা?
উত্তর: সূত্র অনুযায়ী এসি বার্থের ভাড়া প্রায় ৮২৩ টাকা ।
প্রশ্ন ২৫: স্নিগ্ধা ক্লাসের টিকিট কত টাকা?
উত্তর: স্নিগ্ধা ক্লাসের টিকিট ৯৬৬-১১০৪ টাকা ।
প্রশ্ন ২৬: ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ কত?
উত্তর: সীমান্ত এক্সপ্রেসের সর্বোচ্চ গতিবেগ প্রায় ৮০ কিমি/ঘন্টা।
প্রশ্ন ২৭: ট্রেন মিস করলে টিকিট ফেরত পাওয়া যায়?
উত্তর: নির্দিষ্ট নিয়মে ট্রেন ছাড়ার আগে টিকিট জমা দিলে কিছু টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২৮: কোন কোন জেলার যাত্রীরা এই ট্রেন ব্যবহার করেন?
উত্তর: খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়ের যাত্রীরা ।
প্রশ্ন ২৯: বর্ষাকালে ট্রেন চলে?
উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় চলে, তবে ভারী বৃষ্টিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
প্রশ্ন ৩০: ট্রেনের সঠিক সময়সূচী কোথায় পাব?
উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট railway.gov.bd ও eticket.railway.gov.bd ও মোবাইল অ্যাপে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় 。






