🚆 উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ – চট্টগ্রাম টু সিলেট
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী আন্তঃনগর ট্রেন হলো উদয়ন এক্সপ্রেস। চট্টগ্রাম ও সিলেটের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৮ সালের ১৬ মে প্রথম যাত্রা শুরু করে এই ট্রেনটি । দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে এটি যাত্রীদের কাছে একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে টিকে আছে।
চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। উদয়ন এক্সপ্রেস এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে সময় নেয় প্রায় ৮ ঘণ্টা । চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যেতে ট্রেনটি মোট ১০টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় । অন্যদিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যেতে এটি ১১টি স্টেশনে থামে ।
উদয়ন এক্সপ্রেসের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এটি চট্টগ্রাম ও সিলেটের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে। পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের পর এই রুটের দ্বিতীয় আন্তঃনগর ট্রেন এটি । ট্রেনটিতে এসি, স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ার—তিন ধরনের আসন সুবিধা রয়েছে ।
বর্তমানে ট্রেনটি ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা এমজি পিটি ইনকা কোচ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে । এই আধুনিক কোচ যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করে।
২০২৬ সালেও এই ট্রেনের জনপ্রিয়তা অপরিবর্তিত রয়েছে। যারা চট্টগ্রাম থেকে সিলেট বা সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যাতায়াত করেন, তাদের কাছে উদয়ন এক্সপ্রেস একটি নির্ভরযোগ্য নাম। সময়ানুবর্তিতা ও আরামদায়ক আসন—এই দুটি বৈশিষ্ট্যই একে যাত্রীদের কাছে অনন্য করে তুলেছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—উদয়ন এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। চট্টগ্রাম টু সিলেট রুটে (ট্রেন নং ৭২৩) বুধবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন । অন্যদিকে সিলেট টু চট্টগ্রাম রুটে (ট্রেন নং ৭২৪) রবিবার ট্রেনটির ছুটির দিন । এই তথ্যটি যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল দিনে ট্রেন ধরতে গেলে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানবো উদয়ন এক্সপ্রেসের সম্পূর্ণ সময়সূচী, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, স্টেশন তালিকা, ২০২৬ সালের ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম এবং যাত্রার আগে করণীয় বিষয়গুলো। নিচের তথ্যগুলো সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।
উদয়ন এক্সপ্রেসের বিস্তারিত সময়সূচী ও ভাড়া
১. ট্রেন সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | উদয়ন এক্সপ্রেস (Udayan Express) |
| ট্রেন নম্বর (চট্টগ্রাম→সিলেট) | ৭২৩ |
| ট্রেন নম্বর (সিলেট→চট্টগ্রাম) | ৭২৪ |
| রুট | চট্টগ্রাম ↔ সিলেট |
| মোট দূরত্ব | প্রায় ৩২০ কিলোমিটার |
| মোট ভ্রমণ সময় | প্রায় ৮ ঘণ্টা |
| ট্রেনের ধরন | আন্তঃনগর |
| সর্বপ্রথম চালু | ১৬ মে ১৯৮৮ |
| বর্তমান কোচ | ইন্দোনেশিয়ার এমজি পিটি ইনকা |
| মোট স্টেশন (৭২৩) | ১০টি |
| মোট স্টেশন (৭২৪) | ১১টি |
| শ্রেণি বিভাগ | এসি, স্নিগ্ধা, শোভন চেয়ার |
| সর্বোচ্চ গতিবেগ | ৮০ কিমি/ঘন্টা |
২. চট্টগ্রাম টু সিলেট – সময়সূচী ও স্টেশন তালিকা (ট্রেন নং ৭২৩)
উদয়ন এক্সপ্রেস (৭২৩) চট্টগ্রাম থেকে রাত ০৯:৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে এবং পরদিন সকাল ০৫:৪৫ মিনিটে সিলেট পৌঁছায় । ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন বুধবার ।
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (চট্টগ্রাম→সিলেট)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | প্রবেশের সময় | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ১ | চট্টগ্রাম | – | রাত ০৯:৪৫ |
| ২ | ফেনী | রাত ১১:০৪ | রাত ১১:০৭ |
| ৩ | লাকসাম জংশন | রাত ১১:৪৫ | রাত ১১:৪৭ |
| ৪ | কুমিল্লা | রাত ১২:০৯ | রাত ১২:১২ |
| ৫ | আখাউড়া জংশন | রাত ০১:০৫ | রাত ০১:১০ |
| ৬ | শায়েস্তাগঞ্জ | রাত ০২:২৯ | রাত ০২:৩২ |
| ৭ | শ্রীমঙ্গল | রাত ০৩:১০ | রাত ০৩:১৩ |
| ৮ | শমশেরনগর | রাত ০৩:৩৮ | রাত ০৩:৪০ |
| ৯ | কুলাউড়া | ভোর ০৪:০৪ | ভোর ০৪:০৭ |
| ১০ | মাইজগাঁও | ভোর ০৪:৩৫ | ভোর ০৪:৩৭ |
| ১১ | সিলেট | সকাল ০৫:৪৫ | – |
বিঃদ্রঃ: চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাওয়ার পথে ট্রেনটি মোট ১০টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় ।
৩. সিলেট টু চট্টগ্রাম – সময়সূচী ও স্টেশন তালিকা (ট্রেন নং ৭২৪)
ফেরার পথে ট্রেনটি সিলেট থেকে রাত ১০:০০ টায় ছাড়ে এবং পরদিন সকাল ০৫:৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছায় । ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন রবিবার ।
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (সিলেট→চট্টগ্রাম)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | প্রবেশের সময় | ছাড়ার সময় |
|---|---|---|---|
| ১ | সিলেট | – | রাত ১০:০০ |
| ২ | মাইজগাঁও | রাত ১০:৩৯ | রাত ১০:৪১ |
| ৩ | বরমচাল | রাত ১০:৫৮ | রাত ১১:০০ |
| ৪ | কুলাউড়া | রাত ১১:১৩ | রাত ১১:১৬ |
| ৫ | শমশেরনগর | রাত ১১:৪০ | রাত ১১:৪২ |
| ৬ | শ্রীমঙ্গল | রাত ১২:০৮ | রাত ১২:১৩ |
| ৭ | শায়েস্তাগঞ্জ | রাত ১২:৫০ | রাত ১২:৫৩ |
| ৮ | আখাউড়া জংশন | রাত ০২:১৫ | রাত ০২:২০ |
| ৯ | কুমিল্লা | ভোর ০৩:০৩ | ভোর ০৩:০৫ |
| ১০ | লাকসাম জংশন | ভোর ০৩:২৭ | ভোর ০৩:২৯ |
| ১১ | ফেনী | ভোর ০৪:০৭ | ভোর ০৪:০৯ |
| ১২ | চট্টগ্রাম | সকাল ০৫:৩৫ | – |
বিঃদ্রঃ: সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ট্রেনটি মোট ১১টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় ।
৪. গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনসমূহে যাত্রাবিরতির সময়
নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির সময় উল্লেখ করা হলো:
চট্টগ্রাম টু সিলেট রুটে (৭২৩):
| স্টেশন | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় | বিরতির সময় |
|---|---|---|---|
| আখাউড়া জংশন | রাত ০১:০৫ | রাত ০১:১০ | ৫ মিনিট |
| শ্রীমঙ্গল | রাত ০৩:১০ | রাত ০৩:১৩ | ৩ মিনিট |
| কুলাউড়া | ভোর ০৪:০৪ | ভোর ০৪:০৭ | ৩ মিনিট |
সিলেট টু চট্টগ্রাম রুটে (৭২৪):
| স্টেশন | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় | বিরতির সময় |
|---|---|---|---|
| আখাউড়া জংশন | রাত ০২:১৫ | রাত ০২:২০ | ৫ মিনিট |
| শ্রীমঙ্গল | রাত ১২:০৮ | রাত ১২:১৩ | ৫ মিনিট |
| কুমিল্লা | ভোর ০৩:০৩ | ভোর ০৩:০৫ | ২ মিনিট |
৫. উদয়ন এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি
উদয়ন এক্সপ্রেসের ছুটির দিন দুই রুটের জন্য আলাদা:
| রুট | ট্রেন নম্বর | ছুটির দিন |
|---|---|---|
| চট্টগ্রাম → সিলেট | ৭২৩ | বুধবার |
| সিলেট → চট্টগ্রাম | ৭২৪ | রবিবার |
সতর্কতা:
-
আপনি যদি বুধবার চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যেতে চান, তাহলে উদয়ন এক্সপ্রেস পাবেন না
-
আপনি যদি রবিবার সিলেট থেকে চট্টগ্রাম ফিরতে চান, তাহলে এই ট্রেনটি বন্ধ থাকবে
-
বিকল্প হিসেবে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন
৬. উদয়ন এক্সপ্রেসের টিকিটের ভাড়া ২০২৬
উদয়ন এক্সপ্রেসের টিকিটের মূল্য আসন বিভাগ অনুযায়ী নির্ধারিত। নিচে ২০২৬ সালের ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো (আনুমানিক):
ক. চট্টগ্রাম টু সিলেট (পুরো পথ) – ভাড়া তালিকা
| আসনের বিভাগ | আনুমানিক ভাড়া (টাকায়) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৩৫০ – ৪০০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৬৫০ – ৭৫০ টাকা |
| এসি সিট | ৮০০ – ৯০০ টাকা |
খ. সিলেট টু চট্টগ্রাম (পুরো পথ) – ভাড়া তালিকা
| আসনের বিভাগ | আনুমানিক ভাড়া (টাকায়) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৩৫০ – ৪০০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৬৫০ – ৭৫০ টাকা |
| এসি সিট | ৮০০ – ৯০০ টাকা |
গ. স্টেশনভিত্তিক ভাড়া (আনুমানিক)
| রুট | শোভন চেয়ার | স্নিগ্ধা |
|---|---|---|
| চট্টগ্রাম → ফেনী | ১০০-১২০ টাকা | ২০০-২৫০ টাকা |
| চট্টগ্রাম → কুমিল্লা | ১৮০-২০০ টাকা | ৩৫০-৪০০ টাকা |
| চট্টগ্রাম → আখাউড়া | ২২০-২৫০ টাকা | ৪০০-৪৫০ টাকা |
| চট্টগ্রাম → শ্রীমঙ্গল | ২৮০-৩০০ টাকা | ৫০০-৫৫০ টাকা |
| চট্টগ্রাম → সিলেট | ৩৫০-৪০০ টাকা | ৬৫০-৭৫০ টাকা |
| সিলেট → শ্রীমঙ্গল | ৫০-৭০ টাকা | ১০০-১৫০ টাকা |
| সিলেট → কুলাউড়া | ৮০-১০০ টাকা | ১৫০-২০০ টাকা |
বিঃদ্রঃ: উপরের ভাড়াগুলো ২০২৬ সালের বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। টিকিট কাটার সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সঠিক ভাড়া যাচাই করুন।
৭. চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের অন্যান্য ট্রেনের সাথে তুলনা
চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে উদয়ন এক্সপ্রেস ছাড়াও আরও কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে:
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | চট্টগ্রাম ছাড়ে | সিলেট পৌঁছায় | ভ্রমণ সময় | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|---|
| উদয়ন এক্সপ্রেস | ৭২৩ | রাত ০৯:৪৫ | সকাল ০৫:৪৫ | ৮ ঘণ্টা | বুধবার |
| পাহাড়িকা এক্সপ্রেস | ৭১৯ | বিকাল ০৩:০০ | রাত ০৮:৪০ | ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট | সোমবার |
উদয়ন এক্সপ্রেস রাতের ট্রেন হিসেবে কাজ করে, যা যাত্রীদের রাতে ভ্রমণ করে সকালে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা দেয়। অন্যদিকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস দিনের বেলায় ভ্রমণের জন্য উপযোগী।
৮. উদয়ন এক্সপ্রেসের ইতিহাস
উদয়ন এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ট্রেন। এটি ১৯৮৮ সালের ১৬ মে প্রথম যাত্রা শুরু করে । চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের পর এটি দ্বিতীয় আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে যাত্রা শুরু করে ।
বর্তমানে ট্রেনটি ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা এমজি পিটি ইনকা কোচ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে । এই আধুনিক কোচ যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করে।
ট্রেনটির নামকরণ করা হয়েছে “উদয়ন” যা বাংলা ভাষায় “সূর্যোদয়” বা “আরোহণ” বোঝায়। এই নামটি ট্রেনের রাতের যাত্রা ও সকালে গন্তব্যে পৌঁছানোর বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৯. উদয়ন এক্সপ্রেসের বিশেষ সুবিধাসমূহ
উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রীদের জন্য নানাবিধ সুবিধা নিশ্চিত করে :
| সুবিধা | বিবরণ |
|---|---|
| শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত | এসি ও স্নিগ্ধা ক্লাসে এসি সুবিধা |
| আসন বিন্যাস | আরামদায়ক হেলানো আসন |
| শোবার ব্যবস্থা | রাতের যাত্রায় শোবার সুবিধা |
| খাবার সুবিধা | অনবোর্ড ক্যাটারিং সার্ভিস |
| পর্যবেক্ষণ সুবিধা | বড় জানালা দিয়ে দৃশ্য উপভোগ |
| বিনোদন সুবিধা | নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার অভিজ্ঞতা |
| মালপত্রের স্থান | পর্যাপ্ত লাগেজ রাখার জায়গা |
১০. টিকিট অনলাইন বুকিংয়ের নিয়ম
উদয়ন এক্সপ্রেসের টিকিট পেতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
-
অনলাইনে টিকিট কাটুন: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায়
-
যাত্রার ৭ দিন আগে বুকিং দিন: টিকিট সাধারণত যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় খোলা হয়
-
মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করুন: রেল শেবা অ্যাপ থেকেও টিকিট বুকিং করা যায়
-
কাউন্টার থেকেও টিকিট পাবেন: স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট কেনা যায়
উপসংহার
উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের একটি নির্ভরযোগ্য ও ঐতিহ্যবাহী আন্তঃনগর ট্রেন। ১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর একটি। ২০২৬ সালেও ট্রেনটি তার নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে বুধবার ও রবিবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৫ দিন চলাচল করছে।
উদয়ন এক্সপ্রেসের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
✅ রাতের যাত্রার জন্য উপযোগী: চট্টগ্রাম থেকে রাত ০৯:৪৫-এ ছেড়ে সকাল ০৫:৪৫-এ সিলেট পৌঁছায়
✅ আরামদায়ক যাত্রা: এসি, স্নিগ্ধা ও শোভন চেয়ার—তিন ধরনের আসন সুবিধা
✅ আধুনিক কোচ: ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা এমজি পিটি ইনকা কোচ
✅ ঐতিহ্যবাহী ট্রেন: ১৯৮৮ সাল থেকে যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছে
✅ অত্যাধুনিক সুবিধা: অনবোর্ড ক্যাটারিং, শোবার ব্যবস্থা ও বিনোদন সুবিধা
ট্রেনটির যাত্রাপথে ফেনী, কুমিল্লা, আখাউড়া, শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো পড়ায়, এই এলাকার যাত্রীরাও সহজেই ট্রেনে উঠানামা করতে পারেন। বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া স্টেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যাত্রার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন—বুধবার চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং রবিবার সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে । এই দিনগুলোতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন।
টিকিট আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং দেওয়া ভালো। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করলে ঝামেলা কমে এবং নিশ্চিত আসন পাওয়া যায়।
২০২৬ সালে আপনার চট্টগ্রাম-সিলেট ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে উদয়ন এক্সপ্রেস হতে পারে সেরা বাছাই। সঠিক সময়সূচী মেনে টিকিট কেটে নিন এবং নিশ্চিন্তে যাত্রা শুরু করুন। আপনার যাত্রা শুভ হোক!
উদয়ন এক্সপ্রেস ভ্রমণ টিপস
-
টিকিট আগে বুকিং করুন: যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন
-
সঠিক দিন বেছে নিন: বুধবার চট্টগ্রাম থেকে এবং রবিবার সিলেট থেকে এই ট্রেন পাবেন না
-
কম্বল সাথে নিন: রাতের যাত্রায় এসি ক্লাসে ঠান্ডা লাগতে পারে, তাই হালকা কম্বল বা চাদর সাথে রাখুন
-
স্টেশনে আগে পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যান
-
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে রাখুন: দীর্ঘ পথের যাত্রায় খাবার ও পানি সাথে রাখা ভালো। ট্রেনে অনবোর্ড ক্যাটারিং সুবিধা আছে
-
মধ্যবর্তী স্টেশনে নামার পরিকল্পনা থাকলে সতর্ক থাকুন: ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ে চলে, তাই আপনার স্টেশনের আগেই প্রস্তুত থাকুন
❓ Frequently Asked Questions (FAQ) – ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে কখন ছাড়ে?
উত্তর: উদয়ন এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭২৩) চট্টগ্রাম থেকে রাত ০৯:৪৫ মিনিটে ছাড়ে ।
প্রশ্ন ২: উদয়ন এক্সপ্রেস সিলেট পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি সিলেট পৌঁছায় পরদিন সকাল ০৫:৪৫ মিনিটে ।
প্রশ্ন ৩: উদয়ন এক্সপ্রেস সপ্তাহের কোন দিন বন্ধ থাকে?
উত্তর: চট্টগ্রাম টু সিলেট রুটে (৭২৩) বুধবার এবং সিলেট টু চট্টগ্রাম রুটে (৭২৪) রবিবার বন্ধ থাকে ।
প্রশ্ন ৪: সিলেট থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
উত্তর: সিলেট থেকে ট্রেনটি (৭২৪) ছাড়ে রাত ১০:০০ টায় ।
প্রশ্ন ৫: সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি চট্টগ্রাম পৌঁছায় পরদিন সকাল ০৫:৩৫ মিনিটে ।
প্রশ্ন ৬: উদয়ন এক্সপ্রেসের টিকিটের দাম কত ২০২৬?
উত্তর: শোভন চেয়ার ৩৫০-৪০০ টাকা, স্নিগ্ধা ৬৫০-৭৫০ টাকা, এসি সিট ৮০০-৯০০ টাকা (আনুমানিক)।
প্রশ্ন ৭: ট্রেনটি কোন কোন স্টেশনে থামে?
উত্তর: ফেনী, লাকসাম, কুমিল্লা, আখাউড়া, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, শমশেরনগর, কুলাউড়া, মাইজগাঁও 。
প্রশ্ন ৮: উদয়ন এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
উত্তর: চট্টগ্রাম→সিলেট ৭২৩ এবং সিলেট→চট্টগ্রাম ৭২৪ ।
প্রশ্ন ৯: উদয়ন এক্সপ্রেস কবে থেকে চালু হয়েছে?
উত্তর: ১৯৮৮ সালের ১৬ মে যাত্রা শুরু করে ।
প্রশ্ন ১০: ট্রেনটিতে এসি বার্থ সুবিধা আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনটিতে এসি ও শোবার ব্যবস্থা আছে ।
প্রশ্ন ১১: অনলাইনে টিকিট কাটা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায়।
প্রশ্ন ১২: ফেনী স্টেশনে ট্রেন কখন পৌঁছায়?
উত্তর: চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ট্রেনটি ফেনীতে পৌঁছায় রাত ১১:০৪ মিনিটে 。
প্রশ্ন ১৩: কুমিল্লা স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: রাত ১২:০৯ মিনিটে কুমিল্লায় পৌঁছায় 。
প্রশ্ন ১৪: আখাউড়া জংশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ট্রেনটি আখাউড়া পৌঁছায় রাত ০১:০৫ মিনিটে 。
প্রশ্ন ১৫: শ্রীমঙ্গল স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: রাত ০৩:১০ মিনিটে শ্রীমঙ্গলে পৌঁছায় 。
প্রশ্ন ১৬: কুলাউড়া স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: ভোর ০৪:০৪ মিনিটে কুলাউড়ায় পৌঁছায় ।
প্রশ্ন ১৭: মাইজগাঁও স্টেশনে কখন পৌঁছায়?
উত্তর: ভোর ০৪:৩৫ মিনিটে মাইজগাঁও পৌঁছায় 。
প্রশ্ন ১৮: ট্রেনটির মোট যাত্রা সময় কত ঘণ্টা?
উত্তর: প্রায় ৮ ঘণ্টা ।
প্রশ্ন ১৯: ট্রেনের ভেতরে খাবার ব্যবস্থা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ট্রেনটিতে অনবোর্ড ক্যাটারিং সুবিধা আছে ।
প্রশ্ন ২০: মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত সিট আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের সব আন্তঃনগর ট্রেনে মহিলা সংরক্ষিত বগি থাকে।
প্রশ্ন ২১: শিশুদের টিকিটের হার কত?
উত্তর: ৩ বছরের কম শিশুদের বিনামূল্যে, ৩-১২ বছর বয়সীদের সাধারণ ভাড়ার অর্ধেক।
প্রশ্ন ২২: ট্রেনের গতিবেগ কত?
উত্তর: ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ৮০ কিমি/ঘন্টা ।
প্রশ্ন ২৩: উদয়ন এক্সপ্রেস বর্তমানে কোন কোচ ব্যবহার করে?
উত্তর: ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা এমজি পিটি ইনকা কোচ ।
প্রশ্ন ২৪: ট্রেন মিস করলে টিকিট ফেরত পাওয়া যায়?
উত্তর: নির্দিষ্ট নিয়মে ট্রেন ছাড়ার আগে টিকিট জমা দিলে কিছু টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২৫: উদয়ন এক্সপ্রেসের মাধ্যমে কোন কোন শহরে যাওয়া যায়?
উত্তর: চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, আখাউড়া, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও সিলেট 。
প্রশ্ন ২৬: বর্ষাকালে ট্রেন চলে?
উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় চলে, তবে ভারী বৃষ্টিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
প্রশ্ন ২৭: ট্রেনের টিকিট কতদিন আগে বুকিং দেওয়া যায়?
উত্তর: যাত্রার ৭ দিন আগে থেকে অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়া যায়।
প্রশ্ন ২৮: উদয়ন এক্সপ্রেসের বিরতির সময় কতক্ষণ?
উত্তর: আখাউড়ায় ৫ মিনিট, শ্রীমঙ্গলে ৩-৫ মিনিট, কুমিল্লায় ২ মিনিট ।
প্রশ্ন ২৯: ট্রেনের সঠিক সময়সূচী কোথায় পাব?
উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট railway.gov.bd ও মোবাইল অ্যাপে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩০: উদয়ন এক্সপ্রেসে পছন্দের সিট বেছে নেওয়া যায়?






