সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ – ঢাকা টু চট্টগ্রাম বিরতিহীন সেবা
বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম সুবর্ণ এক্সপ্রেস। ১৯৯৮ সালের ১৪ই এপ্রিল দেশের প্রথম বিরতিহীন (নন-স্টপ) আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে যাত্রা শুরু করে এই ট্রেনটি । দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির বাহন হিসেবে পরিচিত।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৩৪৬ কিলোমিটার। সুবর্ণ এক্সপ্রেস এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে সময় নেয় মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট । বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় এটি অন্যতম দ্রুতগতির ট্রেন, যা সময়ানুবর্তিতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর বিরতিহীন সেবা। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে এটি শুধুমাত্র ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয় । এই একটি মাত্র স্টেশনে থামার কারণে ট্রেনটির যাত্রা সময় অনেক কম, যা সময় সচেতন যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
২০২৬ সালেও এই ট্রেনের জনপ্রিয়তা অপরিবর্তিত রয়েছে। যারা অফিসের কাজে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে চট্টগ্রাম যাতায়াত করেন, তাদের কাছে সুবর্ণ এক্সপ্রেস একটি প্রথম পছন্দ। সময়ানুবর্তিতা, আরামদায়ক আসন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কোচ—এই তিনটি বৈশিষ্ট্যই একে যাত্রীদের কাছে অনন্য করে তুলেছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—সুবর্ণ এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। প্রতি সোমবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন । সোমবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিনই এটি নিয়মিত সেবা দিয়ে থাকে।
বর্তমানে ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার ও স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) – এই দুই ধরনের আসন সুবিধা রয়েছে । সম্প্রতি ট্রেনটির ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের সাথে সমন্বয় করে নির্ধারিত ।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানবো সুবর্ণ এক্সপ্রেসের সম্পূর্ণ সময়সূচী, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, আধুনিক কোচ ও আসন বিন্যাস, ২০২৬ সালের ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম এবং যাত্রার আগে আপনার যেসব প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। নিচের তথ্যগুলো সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। তাহলে শুরু করা যাক।
সুবর্ণ এক্সপ্রেসের বিস্তারিত সময়সূচী ও ভাড়া
১. ট্রেন সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | তথ্য |
|---|---|
| ট্রেনের নাম | সুবর্ণ এক্সপ্রেস (Subarna Express) |
| ট্রেন নম্বর (চট্টগ্রাম→ঢাকা) | ৭০১ |
| ট্রেন নম্বর (ঢাকা→চট্টগ্রাম) | ৭০২ |
| রুট | চট্টগ্রাম ↔ ঢাকা (কমলাপুর) |
| মোট দূরত্ব | প্রায় ৩৪৬ কিলোমিটার |
| মোট ভ্রমণ সময় | প্রায় ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট – ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট |
| ট্রেনের ধরন | আন্তঃনগর (বিরতিহীন) |
| সর্বপ্রথম চালু | ১৪ এপ্রিল ১৯৯৮ |
| সাপ্তাহিক ছুটির দিন | সোমবার |
| মোট কোচ সংখ্যা | ১৮টি |
| মোট আসন সংখ্যা | ৮৯০টি |
| শ্রেণি বিভাগ | শোভন চেয়ার ও স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) |
| যাত্রাবিরতি | শুধুমাত্র ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন |
২. চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা (ট্রেন নং ৭০১) – সময়সূচী
সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭০১) চট্টগ্রাম থেকে সকাল ৭:০০ টায় যাত্রা শুরু করে এবং দুপুর ১১:৫৫ মিনিটে – ১২:২৫ মিনিটের মধ্যে ঢাকা কমলাপুর পৌঁছায় ।
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (চট্টগ্রাম→ঢাকা)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | প্রবেশের সময় | ছাড়ার সময় | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ১ | চট্টগ্রাম | – | সকাল ০৭:০০ | যাত্রা শুরু |
| ২ | ঢাকা বিমানবন্দর | সকাল ১১:৫৯ | সকাল ১১:৫৯ – ১২:০৫ | একমাত্র যাত্রাবিরতি |
| ৩ | ঢাকা (কমলাপুর) | দুপুর ১২:২০ – ১২:২৫ | – | গন্তব্যে পৌঁছানো |
বিঃদ্রঃ: চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ট্রেনটি শুধুমাত্র ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে থামে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সময়সূচী অনুযায়ী, এটি এই রুটের দ্রুততম ট্রেনগুলোর একটি ।
৩. ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম (ট্রেন নং ৭০২) – সময়সূচী
ফেরার পথে ট্রেনটি ঢাকা কমলাপুর থেকে বিকাল ৪:৩০ মিনিটে ছাড়ে এবং রাত ৯:২৫ – ৯:৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছায় ।
সম্পূর্ণ স্টেশন তালিকা ও সময়সূচী (ঢাকা→চট্টগ্রাম)
| ক্রম | স্টেশনের নাম | প্রবেশের সময় | ছাড়ার সময় | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ঢাকা (কমলাপুর) | – | বিকাল ০৪:৩০ | যাত্রা শুরু |
| ২ | ঢাকা বিমানবন্দর | বিকাল ০৪:৫৩ – ০৪:৫৮ | বিকাল ০৪:৫৮ | যাত্রাবিরতি |
| ৩ | চট্টগ্রাম | রাত ০৯:২৫ – ০৯:৫০ | – | গন্তব্যে পৌঁছানো |
বিঃদ্রঃ: ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনটি ঢাকা শহরের মূল বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থিত। আকাশপথে ভ্রমণ শেষে যাত্রীরা এখান থেকে ট্রেনে উঠতে পারেন 。
৪. সুবর্ণ এক্সপ্রেসের সাপ্তাহিক ছুটি
সুবর্ণ এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার বন্ধ থাকে । এর মানে হলো:
-
সোমবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রেন (৭০১) চলাচল করে না
-
সোমবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেন (৭০২) চলাচল করে না
সতর্কতা: আপনি যদি সোমবার যাত্রা করার পরিকল্পনা করেন, তাহলে সুবর্ণ এক্সপ্রেস পাবেন না। বিকল্প হিসেবে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (মঙ্গলবার বন্ধ), তূর্ণা এক্সপ্রেস, বা মহানগর প্রভাতী/গোধূলী এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন।
৫. সুবর্ণ এক্সপ্রেসের আধুনিক কোচ ও আসন বিন্যাস
সুবর্ণ এক্সপ্রেস বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে আধুনিক কোচ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৬ জুন থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত অত্যাধুনিক কোচের রেক ট্রেনটিতে যুক্ত করা হয়েছে ।
বর্তমান কোচ ও আসন বিন্যাস :
| কোচের ধরন | সংখ্যা | আসন সংখ্যা |
|---|---|---|
| তাপানুকুল চেয়ার (এসি চেয়ার / স্নিগ্ধা) | ৮টি | – |
| শোভন চেয়ার (নন-এসি) | ৭টি | – |
| শোভন চেয়ার + খাবার গাড়ি + গার্ডব্রেক | ২টি | – |
| পাওয়ার কার | ১টি | – |
| মোট কোচ | ১৮টি | ৮৯০টি আসন |
বিঃদ্রঃ: ট্রেনটিতে বর্তমানে কোনো কেবিন কোচ (এসি বার্থ) নেই। তবে ভবিষ্যতে কেবিন কোচ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ের ।
৬. সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকিটের ভাড়া ২০২৬
সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকিটের মূল্য আসন বিভাগ অনুযায়ী নির্ধারিত। সম্প্রতি ট্রেনটির ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের সাথে সমন্বয় করে নির্ধারিত হয়েছে ।
নিচে ২০২৬ সালের ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
ক. ঢাকা-চট্টগ্রাম (পুরো পথ) – ভাড়া তালিকা
| আসনের বিভাগ | টিকিটের মূল্য (টাকায়) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| শোভন চেয়ার (S_CHAIR) | ৪০৫ টাকা | নন-এসি, জনপ্রিয় ও সাশ্রয়ী |
| প্রথম সিট (F_SEAT) | ৬৮৫ টাকা | নন-এসি |
| স্নিগ্ধা (SNIGDHA) | ৮০৫ টাকা | এসি চেয়ার (ভ্যাটসহ) |
| এসি সিট (AC_S) | ১,০২৫ টাকা | এসি সিট |
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পূর্বে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার ভাড়া ছিল ৩৮০ টাকা এবং স্নিগ্ধা ভাড়া ছিল ৭২৫ টাকা (ভ্যাটসহ) । ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। বর্তমান ভাড়া সেই পুনর্নির্ধারণের পর কার্যকর ।
খ. স্টেশনভিত্তিক ভাড়া (ঢাকা বিমানবন্দর থেকে)
| রুট | আসনের বিভাগ | ভাড়া (টাকায়) |
|---|---|---|
| বিমানবন্দর → চট্টগ্রাম | শোভন চেয়ার | ৩৮০ টাকা |
| বিমানবন্দর → চট্টগ্রাম | স্নিগ্ধা | ৭২৫ টাকা |
| বিমানবন্দর → চট্টগ্রাম | এসি সিট | ৮৭০ টাকা |
গ. ভাড়া প্রসঙ্গে অতিরিক্ত তথ্য
সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ভাড়া সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। যাত্রা পথের দূরত্ব ও সময় একই হওয়া সত্ত্বেও আগে দুটি ট্রেনের ভাড়ায় পার্থক্য থাকায় যাত্রী অসন্তোষ ছিল। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে, যা রেলের রাজস্ব আয়ও বাড়িয়েছে ।
৭. ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের অন্যান্য ট্রেনের সাথে তুলনা
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ছাড়াও এই রুটে আরও কয়েকটি জনপ্রিয় ট্রেন চলাচল করে। নিচে একটি তুলনামূলক ছক দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ঢাকা ছাড়ে | চট্টগ্রাম ছাড়ে | দ্রæততা | ছুটির দিন |
|---|---|---|---|---|---|
| সুবর্ণ এক্সপ্রেস | ৭০১/৭০২ | বিকাল ০৪:৩০ | সকাল ০৭:০০ | ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট | সোমবার |
| সোনার বাংলা এক্সপ্রেস | ৭৮৭/৭৮৮ | সকাল ০৭:০০ | বিকাল ০৫:০০ | ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট | মঙ্গলবার |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস | ৭৪১/৭৪২ | সকাল ০৭:০০ | – | ৫-৬ ঘণ্টা | নেই |
| মহানগর প্রভাতী | ৭০৩/৭০৪ | সকাল ০৭:৪৫ | – | ৬-৭ ঘণ্টা | নেই |
| মহানগর গোধূলী | – | বিকাল ০৪:৪০ | সন্ধ্যা ০৭:০০ | ৬ ঘণ্টা ২০ মিনিট | নেই |
| চট্টলা এক্সপ্রেস | ৮০১/৮০২ | দুপুর ০২:১৫ | সকাল ০৬:০০ | ৭ ঘণ্টা | শুক্রবার |
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস এই রুটের একমাত্র দুইটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন । উভয় ট্রেনই বিমানবন্দর স্টেশনে একটি মাত্র যাত্রাবিরতি দেয়।
৮. টিকিট অনলাইন বুকিংয়ের নিয়ম
সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকিট পেতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
-
অনলাইনে টিকিট কাটুন: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায়
-
মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করুন: সহজ.কম (Sohoj.com) অ্যাপ থেকেও টিকিট বুকিং করা যায়
-
যাত্রার ৭ দিন আগে বুকিং দিন: টিকিট সাধারণত যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় খোলা হয়
-
কাউন্টার থেকেও টিকিট পাবেন: স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট কেনা যায়, তবে অনলাইনে দ্রুত শেষ হয়ে যায়
৯. যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস
সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ভ্রমণের আগে নিচের বিষয়গুলো জেনে রাখুন:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ট্রেনের গতিবেগ | সর্বোচ্চ ৮০ কিমি/ঘন্টা |
| খাবার সুবিধা | ট্রেনটিতে অন-বোর্ড খাবার সুবিধা আছে |
| লাগেজ নিয়ম | ওভারহেড র্যাকে লাগেজ রাখার সুবিধা |
| বেস স্টেশন | চট্টগ্রাম |
| বিশেষ সতর্কতা | সোমবার ট্রেন বন্ধ থাকে |
উপসংহার
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের একটি নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির আন্তঃনগর ট্রেন। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেনগুলোর একটি। ২০২৬ সালেও ট্রেনটি তার নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে সোমবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন চলাচল করছে।
সুবর্ণ এক্সপ্রেসের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
✅ দ্রুততম যাত্রা: চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পৌঁছাতে মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় লাগে
✅ বিরতিহীন সেবা: শুধুমাত্র ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে থামে
✅ আধুনিক কোচ: দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা অত্যাধুনিক কোচ
✅ আরামদায়ক আসন: শোভন চেয়ার ও স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) — দুই ধরনের আসন সুবিধা
✅ সাশ্রয়ী ভাড়া: শোভন চেয়ারে ৪০৫ টাকায় ভ্রমণ করা যায়, স্নিগ্ধায় ৮০৫ টাকা
ট্রেনটির যাত্রাপথে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশন থাকায়, আকাশপথে ভ্রমণ শেষে যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে উঠতে পারেন। এটি বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও প্রবাসী যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।
যাত্রার আগে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন—সোমবার সুবর্ণ এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে । সোমবার ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (মঙ্গলবার বন্ধ), তূর্ণা এক্সপ্রেস, বা মহানগর প্রভাতী/গোধূলী এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন।
টিকিট আগে থেকেই অনলাইনে বুকিং দেওয়া ভালো। বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করলে ঝামেলা কমে এবং নিশ্চিত আসন পাওয়া যায়।
২০২৬ সালে আপনার চট্টগ্রাম ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে সুবর্ণ এক্সপ্রেস হতে পারে সেরা বাছাই। সঠিক সময়সূচী মেনে টিকিট কেটে নিন এবং নিশ্চিন্তে যাত্রা শুরু করুন। আপনার যাত্রা শুভ হোক!
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ভ্রমণ টিপস
-
টিকিট আগে বুকিং করুন: যাত্রার ৭ দিন আগে সকাল ৮টায় অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন
-
সঠিক দিন বেছে নিন: সোমবার যাত্রা করলে সুবর্ণ এক্সপ্রেস পাবেন না
-
বিমানবন্দর স্টেশন ব্যবহার করুন: আকাশপথে ভ্রমণ শেষে বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠতে পারেন (ঢাকা→চট্টগ্রাম রুটে ট্রেনটি বিকাল ০৪:৫৮ মিনিটে বিমানবন্দর ছাড়ে )
-
স্টেশনে আগে পৌঁছান: ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যান
-
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে রাখুন: দীর্ঘ পথের যাত্রায় খাবার ও পানি সাথে রাখা ভালো। ট্রেনে অন-বোর্ড খাবার সুবিধা থাকলেও নিজের পছন্দের স্ন্যাক্স নিয়ে যাওয়া যেতে পারে ।
❓ Frequently Asked Questions (FAQ) – ৩০টি প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: সুবর্ণ এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে কখন ছাড়ে?
উত্তর: সুবর্ণ এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭০১) চট্টগ্রাম থেকে সকাল ০৭:০০ টায় ছাড়ে 。
প্রশ্ন ২: সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকা পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি ঢাকা কমলাপুর পৌঁছায় দুপুর ১২:২০ – ১২:২৫ মিনিটের মধ্যে 。
প্রশ্ন ৩: সুবর্ণ এক্সপ্রেস সপ্তাহের কোন দিন বন্ধ থাকে?
উত্তর: সুবর্ণ এক্সপ্রেস সোমবার বন্ধ থাকে 。
প্রশ্ন ৪: ঢাকা থেকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস কখন ছাড়ে?
উত্তর: ঢাকা থেকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭০২) ছাড়ে বিকাল ০৪:৩০ মিনিটে 。
প্রশ্ন ৫: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছায় কখন?
উত্তর: ট্রেনটি চট্টগ্রাম পৌঁছায় রাত ০৯:২৫ – ০৯:৫০ মিনিটে 。
প্রশ্ন ৬: সুবর্ণ এক্সপ্রেসের টিকিটের দাম কত ২০২৬?
উত্তর: শোভন চেয়ার ৪০৫ টাকা, প্রথম সিট ৬৮৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৮০৫ টাকা (ভ্যাটসহ), এসি সিট ১,০২৫ টাকা 。
প্রশ্ন ৭: সুবর্ণ এক্সপ্রেস কোথায় কোথায় থামে?
উত্তর: ট্রেনটি শুধুমাত্র ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম বিরতিহীন ট্রেন 。
প্রশ্ন ৮: সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ট্রেন নম্বর কত?
উত্তর: চট্টগ্রাম→ঢাকা ৭০১ এবং ঢাকা→চট্টগ্রাম ৭০২ 。
প্রশ্ন ৯: সুবর্ণ এক্সপ্রেস কবে থেকে চালু হয়েছে?
উত্তর: ১৯৯৮ সালের ১৪ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে। এটি বাংলাদেশের প্রথম বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন 。
প্রশ্ন ১০: ট্রেনটিতে এসি বার্থ সুবিধা আছে কি?
উত্তর: বর্তমানে সুবর্ণ এক্সপ্রেসে এসি বার্থ বা কেবিন সুবিধা নেই। শুধুমাত্র শোভন চেয়ার ও স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) আসন আছে 。 তবে ভবিষ্যতে কেবিন কোচ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে 。
প্রশ্ন ১১: সুবর্ণ এক্সপ্রেসের মোট আসন সংখ্যা কত?
উত্তর: ট্রেনটির বর্তমান রেকে মোট আসন সংখ্যা ৮৯০টি এবং মোট কোচ সংখ্যা ১৮টি 。
প্রশ্ন ১২: সুবর্ণ এক্সপ্রেসের গতিবেগ কত?
উত্তর: ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ৮০ কিমি/ঘন্টা। এটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম দ্রুতগতির ট্রেন 。
প্রশ্ন ১৩: অনলাইনে টিকিট কাটা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট eticket.railway.gov.bd থেকে টিকিট কাটা যায় 。
প্রশ্ন ১৪: বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেন কখন পৌঁছায়?
উত্তর: চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছায় সকাল ১১:৫৯ মিনিটে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছায় বিকাল ০৪:৫৩ মিনিটে ও ছাড়ে ০৪:৫৮ মিনিটে 。
প্রশ্ন ১৫: ট্রেনের ভেতরে খাবার ব্যবস্থা আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে অন-বোর্ড খাবার সুবিধা আছে 。
প্রশ্ন ১৬: মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত সিট আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের সব আন্তঃনগর ট্রেনে মহিলা সংরক্ষিত বগি থাকে।
প্রশ্ন ১৭: শিশুদের টিকিটের হার কত?
উত্তর: ৩ বছরের কম শিশুদের বিনামূল্যে, ৩-১২ বছর বয়সীদের সাধারণ ভাড়ার অর্ধেক।
প্রশ্ন ১৮: সুবর্ণ এক্সপ্রেসে কি শোবার ব্যবস্থা আছে?
উত্তর: না, এই ট্রেনে শোবার ব্যবস্থা নেই। ট্রেনটিতে শুধুমাত্র চেয়ার আসনের ব্যবস্থা রয়েছে 。
প্রশ্ন ১৯: সুবর্ণ এক্সপ্রেস বনাম সোনার বাংলা এক্সপ্রেস কোনটি দ্রুত?
উত্তর: সুবর্ণ এক্সপ্রেস কিছুটা দ্রুততর। সুবর্ণ এক্সপ্রেস ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছায়, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় নেয় 。
প্রশ্ন ২০: টিকিট কতদিন আগে বুকিং দেওয়া যায়?
উত্তর: যাত্রার ৭ দিন আগে থেকে অনলাইনে টিকিট বুকিং দেওয়া যায়।
প্রশ্ন ২১: ট্রেনটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা কত?
উত্তর: ট্রেনটির মোট আসন সংখ্যা ৮৯০টি। ঈদ বা বিশেষ মৌসুমে ট্রেনটিকে ২২/৪৪ লোডে চালানো হয় ।
প্রশ্ন ২২: সোমবার চট্টগ্রাম যেতে কোন ট্রেন ভালো?
উত্তর: সোমবার সুবর্ণ এক্সপ্রেস বন্ধ থাকায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (মঙ্গলবার বন্ধ), তূর্ণা এক্সপ্রেস বা মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস বেছে নিতে পারেন।
প্রশ্ন ২৩: ট্রেন মিস করলে টিকিট ফেরত পাওয়া যায়?
উত্তর: নির্দিষ্ট নিয়মে ট্রেন ছাড়ার আগে টিকিট জমা দিলে কিছু টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২৪: ট্রেনটি কোন ধরনের কোচ ব্যবহার করে?
উত্তর: ২০২৩ সালের ৬ জুন থেকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত অত্যাধুনিক কোচের রেক ট্রেনটিতে যুক্ত করা হয়েছে 。
প্রশ্ন ২৫: ২০২৬ সালে ভাড়া কি পরিবর্তন হয়েছে?
উত্তর: ২০২৬ সালের ভাড়া পূর্বের পুনর্নির্ধারিত ভাড়ার ভিত্তিতেই রয়েছে। সর্বশেষ ভাড়া সংশোধন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৫ জানুয়ারি ।
প্রশ্ন ২৬: ট্রেনের টিকিট ফেরতের নিয়ম কী?
উত্তর: নির্দিষ্ট নিয়মে ট্রেন ছাড়ার আগে টিকিট জমা দিলে কিছু টাকা ফেরত পাওয়া যায়। বিস্তারিত জানতে রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।
প্রশ্ন ২৭: সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ইতিহাস কী?
উত্তর: ১৪ এপ্রিল ১৯৯৮ সালে দেশের প্রথম বিরতিহীন ট্রেন হিসেবে সুবর্ণ এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে। চালুর আগে ৭০১/৭০২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস ব্যবহার করতো। সুবর্ণ চালুর পর মহানগর এক্সপ্রেসকে ৭২১/৭২২ নম্বর দেওয়া হয় 。
প্রশ্ন ২৮: বর্ষাকালে ট্রেন চলে?
উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় চলে, তবে ভারী বৃষ্টিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
প্রশ্ন ২৯: ট্রেনের সঠিক সময়সূচী কোথায় পাব?
উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট railway.gov.bd ও মোবাইল অ্যাপে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩০: ট্রেনটিতে পাওয়ার কার আছে কেন?
উত্তর: পাওয়ার কার ট্রেনের এসি কোচগুলোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। ট্রেনটিতে ১টি পাওয়ার কার রয়েছে






